অঘটনঘটন পটিয়সী (নতুন আপডেট ৩৭) - অধ্যায় ২৪২
সাবরিনা নামতে থাকে দ্রুত তার পিছনে মাহফুজ। দোতালায় এসে মাহফুজ পিছন থেকে সাবরিনা কে ধরে ফেলে, ওর হাত ধরে আটকায়। ঝটকা মেরে হাত সরিয়ে নিতে চায় সাবরিনা। মাহফুজের হাতের শক্ত বাধন থেকে নিজের হাত ছুটিয়ে নিতে পারে না। মাহফুজ বলে স্যরি। সাবরিনা তাও হাত ছুটিয়ে নিতে চায়। মাহফুজ আবার বলে স্যরি। সাবরিনা নিঃশব্দে হাত ছাড়িয়ে নিতে চেষ্টা করে। মাহফুজ এইবার একটু জোরে বলে, আমি স্যরি আসলেই। হঠাত মুখ দিয়ে বের হয়ে গেছে। সাবরিনা ফিস ফিস করে বলে আস্তে কথা বল, কেউ শুনতে পাবে। মাহফুজ চারপাশে তাকায়। এই এপার্টমেন্ট বিল্ডিং এর দোতলাতে কোন ফ্লাট নেই। দোতলা ব্যবহৃত হয় এপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স কমিটির অফিস হিসেবে, একটা বড় স্টোর রুম আছে, আর সাথে বড় একটা কমিউনিটি সেন্টারের মত আছে। নরমাল সন্ধায় এখানে এপার্টমেন্টের ছেলে মেয়েরা এসে টেবিল টেনিস খেলে। এখানে কার জন্মদিন, গায়ে হলুদ বা বড় কোন অনুষ্ঠান হলে সেটার আয়োজন হয়। ফলে এই তালায় কোন মানুষ নরমালি থাকে না। করিডোরের এক সাইডে একটা সাদা টিউবলাইট আলো ছড়াচ্ছে। তবে সেই আলো পুরো করিডোর আলোকিত করবার জন্য যথেষ্ট না ফলে একটা অন্ধকার ভাব চারিদিকে। সিনথিয়ার গায়ে হলুদ এখানে হয়েছে। ফলে এই জায়গাটা ভাল করে চেনা মাহফুজের। এই রাতে এই তালায় কেউ আসবে না। আর ঠিক নিচে থেকে আসা জেনারেটরের সাউন্ডে ছাপিয়ে ওদের কথা অন্য কোথায় যাবার কথা না, এমনকি চিতকার করলেও শোনা যাবে কিনা সন্দেহ। মাহফুজ বলে জেনারেটরের সাউন্ডের জন্য জোরে কথা বলতে হচ্ছে সাবরিনা। সাবরিনা উত্তর না দিয়ে অগ্নিদৃষ্টি দিয়ে তাকিয়ে থাকে যেন মাহফুজ কে ভষ্ম করে দিবে দৃষ্টি দিয়ে।
মাহফুজ জিজ্ঞেস করে আমার সাথে এমন করছ কেন?
কি করলাম?
আমার কথার উত্তর দিচ্ছ না
উত্তর দেওয়ার মত কিছু নেই
এত কাটকাট উত্তর দিচ্ছ কেন?
আইস কুইনরা এত কথা বলে না
মাহফুজের হাসি চলে আসে। রাগলে সাবরিনা কে সিনথিয়ার মত কিউট লাগে।
আচ্ছা তাই নাকি আইস কুইন?
ছাড় হাত, নিচে যেতে হবে সাদমান অপেক্ষা করছে
সাদমান আসতে দেরি আছে, তেলের লাইন লম্বা। এত তাড়াতাড়ি আসতে পারবে না।
তাতে কি হয়েছে? তাই বলে অন্যের বউয়ের হাত ধরে ধরে থাকবে এই রাতের বেলা
সাবরিনার গলার ঝাঝ স্পষ্ট। মাহফুজ তবু হাত ছাড়ে না।
কি হয়েছে তাতে? যখন ইচ্ছা তোমার হাত ধরব।
যাকে বিয়ে করেছ তার হাত ধর আমার হাত ধরতে হবে না
যাকে বিয়ে করেছি তার হাত ধরলেও তো তোমার সমস্যা। তখন বকা দিচ্ছ।
কোথায় কি করতে হয় জানতে হয়। ডাইনিং টেবিল হাত এইসব করার জায়গা না
মাহফুজ এইবার নিষ্পাপ সাজার চেষ্টা করে। বলে ডাইনিং টেবিল খাবার জায়গা না? আমি তো খাচ্ছিলাম তাই বলে এইভাবে বকা দিবে।
বোকা সাজবা না, তুমি জান আমি কি বলছি
মাহফুজ ভাব ধরে কিছুই জানে না। কেন আজকাল কি ডাইনিং টেবিলে খাওয়া নিষেধ। খেলে আর সমস্যা কি
যদি খালি খাওয়া দাওয়া হচ্ছিল তাহলে সিনথিয়ার মুখে এমন হলো কেন
কেমন হয়েছিল ওর মুখ
তুমি ঠিক জান আমি কিসের কথা বলছি
নাহ, তুমি বল
ইউ আর এবসিলিউটলি ইম্পোসিবল
কেন তোমার হিংসা হচ্ছিল, তোমার ওমন মুখ করতে ইচ্ছা করছিল
অনেক সময় মানুষ তার মনের কথা অন্য কেউ বুঝে ফেললে ক্ষেপে যায়। সাবরিনার তখন সেই অবস্থা। হাতে একটা ঝটকা মারে। হঠাত প্রস্তুত না থাকায় মাহফুজের হাত থেকে হাত সরিয়ে ফেলতে পারে। হেটে দুই পা সামনে এগুতেই মাহফুজ আবার হাত ধরে ফেলে পিছন থেকে।
কি হলো উত্তর না দিয়ে চলে যাচ্ছ যে? ডিড ইউ ফিল জেলাসি?
ডোন্ট আস্ক বুল শিট কোশ্চেন
ও, গুডি টু শুজ মিস সাবরিনার মুখে বাজে কথা হাহাহাহা
সাবরিনা একটু থমকে যায়। কি করবে বুঝতে পারে না। ওর ভিতরের জেলাসিটা ধ্রুব সত্য। তবে মাহফুজের কাছে স্বীকার করার কোন কারণ নেই এতে। তবে মাহফুজ সাবরিনা কে যথেষ্ট ভাল চিনে, জানে সাবরিনার পক্ষে মাথা নোয়ানো সম্ভব নয়। তাই আরো টিজ করে।
জান ঐ সময় কি হচ্ছিল? আই ওয়াজ টাচিং সিনথিয়াস পুসি উইথ মাই বিগ টো। আমার বুড়ো আংগুল ওর পুসিতে বুলাচ্ছিলাম।
সত্যটা জানা থাকলেও মাহফুজের এমন সাহসী স্বীকারোক্তি অবাক করে দেয়। সাবরিনা এইবার জোড়ে বলে
বাস্টার্ড
ইটস ইউর বাস্টার্ড ডার্লিং
তোমার সাহস অনেক বেড়ে যাচ্ছে
ইটস ইউ ডার্লিং, ইউ মেইক মি কারেজিয়াস। ডোন্ট ইউ ওয়ান্ট টু বি লাইক সিনথিয়া? কারেজিয়াস, কেয়ার ফ্রি?
সাবরিনা চুপ করে থাকে। তবে মাহফুজ আবার বলতে থাকে।
খাবার টেবিলে সবাই যখন তোমরা গল্প করছ টেবিলের তলা দিয়ে আমার পা তখন সিনথিয়া কে আদর করছিল। ওর চোখ তোমার মনে আছে ঐ সময়ের জন্য। আধবোজা ছিল। খাবার পরে আমাকে কি বলেছিল জান? ইটস ফ্রিকিং মোস্ট এক্সাইটিং থিং আই ডিড টু হার। ওর আব্বু, আম্মু, ফুফু, বড় বোন সবার সামনে ওকে টাচ করছি। শি হ্যাজ এ লিটল অর্গাজম দেয়ার ডার্লিং। ডু ইউ ওয়ান্ট ওয়ান?
(বাকি অংশ অপর পৃষ্ঠায়)