অঘটনঘটন পটিয়সী (নতুন আপডেট ৩৭) - অধ্যায় ২৪৯

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-52771-post-6289796.html#pid6289796

🕰️ Posted on Mon Aug 17 2026 by ✍️ কাদের (Profile)

🏷️ Tags:
📖 764 words / 3 min read

ঠ রাত দেড়টার ফ্লাইট সিনথিয়ার। এখন বাজে সাড়ে এগারটা। চেকিং হয়ে গেছে। বসার সবাই এসেছে। এমন কি নানী আসমা বেগম এসেছেন। সিনথিয়ার ফ্যামিলির সবাই এসেছে। মাহফুজের বাবা আর ভাই এসেছে এত রাতেও। সিনথিয়া সালোয়ার কামিজ পড়ে এসেছে আজকে শ্বশুড় আর বরের বড় ভাই আসবে বলে। তাদের সামনে খুব নম্র হয়ে কথা বলছে। সাফিনা দূর থেকে দেখছেন তার মেয়ে কে মিলাতে পারছেন না। ঐদিন বিকালে যা উনি শুনেছেন বাথরুমে বসে সে মেয়ের সাথে এই মেয়ে কে মিলানো সম্ভব না। ঐদিনের পর থেকে উনি সিনথিয়া আর মাহফুজের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারছেন না। তার মনে হচ্ছে একবার চোখে চোখ রাখলে ওরা বুঝে যাবে দরজার ঐপাশে উনি বসে ছিলেন। আর ডেঞ্জারাস যেটা নিজেও নিজের কাছে স্বীকার করতে চাচ্ছেন না। উনার ভয়ংকর সেই অর্গাজমের কথা। তাই সিনথিয়ার সাথে চোখ মিলাতে পারছেন না। পাশে দাঁড়ানো সাবরিনার সাথে কথা বলে  নিজেকে একটু অন্য মনস্ক করতে চান। সিনথিয়া ভিতরে ঢুকে যাবে। এসে এসে একে একে সবাই কে জড়িয়ে ধরছে। সিনথিয়ার চোখে জল। জেদি হলেও মনটা নরম মেয়ের। মা কে এসে জড়িয়ে ধরে। কেদে দেয় এইবার। ওর কান্না সাফিনার মাঝেও সংক্রামন হয়। মেয়ের চোখের দিকে অপরাধবোধে তাকাতে না পারলেও মাতৃস্নেহে জল ধরে রাখতে পারেন না। সন্তান নাড়ি কাটা ধন। বুকে জড়িয়ে ধরেন। সিনথিয়া মাকে জড়িয়ে ধরে বলে মা তুমি নিজের যত্ন নিবে। বাবা কে আমি বলেছি তোমার যত্ন নিতে, আপু কে বলেছি তোমার খেয়াল রাখতে। আর তোমার শর্ত অনুযায়ী কাউকে কিছু বলে নি তোমার ডিপ্রেশনের কথা। তুমি নিয়মিত কাউন্সিলিং এ যাবে। আমি প্রতিদিন কথা বলব। এক্সারসাইজ করবে। ঘুরতে যাবে। তুমি নাটক দেখতে পছন্দ কর নাটক দেখতে যাবে। বই পড়বে। সব করবে। মাঝে মাঝে নানী বাড়ি বেড়াতে যাবে। এত সময় কই মা উত্তর দেয় সাফিনা। সিনথিয়া কথা পাত্তা দেয় না। আমি সবাই কে বলে রেখেছি। আমি ঝাড়ি দিব। আর অন্যরা না পারলে মাহফুজ আছে। ওর তো আর বউ কে সময় দিতে হবে না। সেই সময়টা ও তোমাকে দিবে। সাফিনা বলেন ওকে এত কষ্ট দিচ্ছিস কেন? সিনথিয়া বলে একটু কাজ করুক। শ্বশুড় বাড়ির একটু সেবা করুক। তোমার যুগে মেয়েরা শ্বশুড় বাড়ির সেবা করত এই যুগে নাহয় ছেলে হয়ে মাহফুজ শ্বাশুড়ির সেবা করুক। কথায় কথায় সময় গড়িয়ে যায়। সিনথিয়ার ইমিগ্রেশনের গেট দিয়ে ঢোকার সময় হয়ে আসে। সিনথিয়া বড়দের সবাই কে পা ধরে সালাম করে। বাকিদের জড়িয়ে ধরে। এরপর সবাই সিনথিয়া আর মাহফুজ কে একটু প্রাইভেসি দিতে নিজেদের সাথে কথা বলতে বলতে একটু দূরে সরে দাঁড়ায়। সিনথিয়া মাহফুজ জড়িয়ে ধরে একটা লম্বা হাগ দেয়। তারপর বলে তোমাকে একটা দ্বায়িত্ব দিয়েছি মনে আছে তো? মাহফুজ বলে কোনটা। সিনথিয়া রাগের ভান করে এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেছ? বললাম না আম্মু একা হয়ে গেছে। আমি যাবার পর আর বেশি। সবাই বিজি। তুমি যতটা বেশি করে পার আম্মু কে সময় দিবে। আম্মু ঘুরতে পছন্দ করে। তুমি নিজেও ঘুরতে পছন্দ কর। পারলে আম্মুর সাথে যাবে। আম্মু বই পড়ে তুমি বই পড়। এইসব নিয়ে গল্প করবে। মুভি নিয়ে গল্প করবে। আম্মু কে নাটক দেখাতে নিয়ে যাবে। মাহফুজ দুষ্টমি করে বলে এতো পুরোদস্তুর একটা চাকরি দেখি। সিনথিয়া বলে হ্যা, চাকরি। আমি থাকলে আমাকে সময় দিতে  হতো না। আমার ভাগের সময় টা মাকে দিবে। তুমি চাও না আমি ভাল থাকি। ভালবাবে পড়াশুনা শেষ করি এই এক বছর। মাহফুজ বলে হ্যা। সিনথিয়া বলে আমার মা ভাল না থাকলে আমি কি ভাল থাকব? আর তুমি তো নিজেই বল তুমি তোমার মা মারা যবার পর কতটা একা ফিল করো। আমার মা তো বেচে আছে। আমি কিভাবে তাকে একা একা কষ্ট করতে দেই বলো। তুমি আমার সবচেয়ে আস্থার লোক। তাই তোমার উপর দ্বায়িত্ব দিচ্ছি আম্মুকে সংগ দেবার। যাতে তার মন খারাপ না হয়। যাতে একা ফিল না করে। প্রমিজ করো? এত কথা বলার পর এবং মাহফুজের উইক পয়েন্ট মা নিয়ে কথা বলার পর মাহফুজের না করার উপায় নেই। মাহফুজ বলে ইয়েস ম্যাডাম। আমি আপনার অবর্তমানে আন্টির যাতে কোন কষ্ট না হয়  সেটা খেয়াল করব। সিনথিয়া বলে আমি কিন্তু তোমার আব্বু কে আব্বু ডাকি তুমি আম্মু আব্বু কে এখনো আন্টি আংকেল ডাক কেন। মাহফুজ কান ধরে। বলে একটু সময় দাও। আমি ঠিক করে ফেলব। প্লিজ। সিনথিয়া হেসে বলে ওকে, সময় দিলাম তবে ফাইন হিসেবে আম্মু কে আর বেশি সময় দিবে। মাহফুজ বলে আন্টি তো টিচার। আমার বড় ভয় করে। সিনথিয়া বলে আবার দুষ্টমি। আম্মু কড়া হলেও খুব ভাল মানুষ। তুমি একবার ভাল করে মিশলে বুঝবে। তুমি কিন্তু প্রমিজ করেছ। মাহফুজ বলে মাই ওয়ার্ড ইজ মাই বন্ড মাই কুইন। সিনথিয়া হাসি দিয়ে বলে আই নো মাই কিং। তারপর মাহফুজ কে জড়িয়ে ধরে। এরপর অন্যদের দিকে তাকিয়ে হাত নাড়ায়। তারপর মাহফুজ কে বাই বলে দ্রুত ইমিগ্রেশন গেটের দিকে যায়। চোখের পাই কাউকে দেখাতে চায় না ও। ইমিগ্রেশন ক্রস করার পর কাচের দেয়াল দিয়ে অন্য পাশে তাকায়। সবাই দাঁড়িয়ে আছে। সবাই সামনে এসে দাড়িয়েছে। মাহফুজের একপাশে ওর আম্মু দাঁড়ানো। সিনথিয়া একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। সবচেয়ে যোগ্য লোকের হাতে ও আম্মুর দ্বায়িত্ব দিয়ে এসেছে। আম্মুর ডিপ্রেশনের সময় আম্মুর যোগ্য সংগী হতে পারবে মাহফুজ।