ছায়ার আড়ালে আগুন -Crime Thriller [Part-3: অন্ধকারের অধিশ্বর] - অধ্যায় ৪৭

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-71326-post-6240826.html#pid6240826

🕰️ Posted on Tue Jun 16 2026 by ✍️ indonetguru (Profile)

🏷️ Tags:
📖 554 words / 2 min read

গল্প: "ছায়ার আড়ালে আগুন" (পার্ট-৩: অন্ধকারের অধীশ্বর)  সাতচল্লিশতম পরিচ্ছেদ: মিতালি সেনের প্রচার মিতালি সেনের এনজিও-র মেইন অফিস টালিগঞ্জের একটা নামী এলাকায়। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় একটা সাধারণ সমাজসেবী সংস্থা — সাদা রঙের দেওয়াল, বড় গেট, আর সামনে লেখা “মহিলা উন্নয়ন ও সুরক্ষা সংস্থা”। কিন্তু ভিতরে যা চলছিল, তা ছিল সম্পূর্ণ অন্যরকম। আজ সকাল থেকেই অফিসের ভিতরটা ব্যস্ত। মিতালি সেন নিজে উপস্থিত। তার পরনে রুচিসম্মত কটন শাড়ি, হালকা মেকআপ, আর হাতে সোনার চুড়ি। চেহারায় সেই স্বাভাবিক ভদ্র মহিলার ছাপ, কিন্তু চোখে ছিল একটা তীক্ষ্ণ, হিসেবি দৃষ্টি। তিনি কনফারেন্স রুমে বসে ছিলেন। তার সামনে টেবিলে কয়েকটা ফাইল আর একটা ল্যাপটপ। পাশে বসে ছিল তার ট্রাস্টের দুইজন বিশ্বস্ত কর্মী — একজন মহিলা, আরেকজন পুরুষ। দরজা বন্ধ। “এই মাসে মোট কত টাকা খরচ হয়েছে?” মিতালি সেন শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করলেন। “প্রায় সতেরো লাখ, ম্যাডাম,” একজন কর্মী উত্তর দিল। “সাড়ে ছয় লাখ গেছে মহিলাদের মাঝে শাড়ি আর ব্ল্যাঙ্কেট বিতরণে। বাকিটা গেছে বিভিন্ন এলাকায় মিটিং আর ক্যাম্পের জন্য।” মিতালি সেন হালকা হেসে ফেললেন। “ভালো। শাড়ি-ব্ল্যাঙ্কেটের বিলগুলো ঠিক রাখো। আর যে টাকাগুলো সরাসরি প্রচারে যাচ্ছে, সেগুলো অন্য অ্যাকাউন্ট দিয়ে দেখাও। কোনো ফাঁক রেখো না।” তিনি চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে বাইরের দিকে তাকালেন। তার মুখে এখন একটা শান্ত, কিন্তু দৃঢ় অভিব্যক্তি। “মহিলারা আমাদের সবচেয়ে বড় ভোটব্যাংক,” তিনি বললেন। “তাদের কাছে পৌঁছাতে পারলেই কাজ হয়ে যাবে। টাকা দিয়ে নয়, সেবার নাম করে। শাড়ি দাও, ব্ল্যাঙ্কেট দাও, ছোটখাটো টাকা দাও — তারা মনে রাখবে। আর যখন ভোটের দিন আসবে, তারা আমার নামই বলবে।” বিকেলে মিতালি সেন নিজে একটা এলাকায় গেলেন। সেখানে তার এনজিও-র উদ্যোগে একটা মহিলা সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। ছোট মাঠে শতাধিক মহিলা জড়ো হয়েছে। অনেকেই হাতে শাড়ির প্যাকেট নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ কেউ ছোট বাচ্চা কোলে নিয়ে এসেছে। মিতালি সেন মঞ্চে উঠে দাঁড়ালেন। তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল এনজিও-র কয়েকজন কর্মী। মাইকের সামনে গিয়ে তিনি শান্ত, কিন্তু আবেগপূর্ণ গলায় বলতে শুরু করলেন। “আমি আপনাদের মতোই একজন মা। আমারও একটা ছেলে আছে। আমি জানি, একজন মহিলা কীভাবে সংসার সামলায়, কীভাবে সন্তানকে মানুষ করে। আজ আমি এনজিও-র মাধ্যমে আপনাদের পাশে দাঁড়াতে চাই।” তিনি থামলেন। তারপর আবার বললেন, “আমি চাই, এই এলাকার প্রতিটি মেয়ে যেন নিরাপদে কলেজে যেতে পারে। প্রতিটি মা যেন তার সন্তানের জন্য একটা সুস্থ ভবিষ্যৎ পায়। এজন্য আমি লড়ব।” সমাবেশ শেষে মহিলাদের মাঝে শাড়ি আর ছোট ছোট নগদ টাকা বিতরণ করা হল। অনেকেই মিতালি সেনের পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নিল। কেউ কেউ বলল, “আপনি আমাদের মতোই মানুষ ম্যাডাম। আপনাকে ভোট দেব।” মিতালি সেন হাসিমুখে সবার হাত ধরে কথা বলছিলেন। কিন্তু তার চোখে ছিল হিসেবের দৃষ্টি। তিনি জানতেন, এই শাড়ি আর টাকার পেছনে আসলে তার নির্বাচনী প্রচার চলছে। এনজিও-র ফান্ড থেকে যে টাকা বেরোচ্ছে, তার একটা বড় অংশ যাচ্ছে তার নিজের প্রচারে — পোস্টার, মাইকিং, কর্মীদের ভাতা, এমনকি কিছু এলাকায় গুণ্ডা-মাস্তানদেরও “ম্যানেজ” করতে। সন্ধ্যায় অফিসে ফিরে তিনি আবার তার বিশ্বস্ত কর্মীদের ডেকে বসালেন। “আজকের মিটিংটা ভালো হয়েছে,” তিনি বললেন। “কিন্তু আরও বেশি মহিলাকে ছুঁতে হবে। পরের সপ্তাহে তিনটা এলাকায় একসাথে ক্যাম্প করো। শাড়ি, ব্ল্যাঙ্কেট, আর ছোট ছোট মেডিকেল ক্যাম্প — সব একসাথে। টাকার কোনো সমস্যা হবে না।” একজন কর্মী সাহস করে বলল, “ম্যাডাম, এত টাকা এনজিও-র অ্যাকাউন্ট থেকে বের করলে পরে অডিটে সমস্যা হতে পারে…” মিতালি সেন তার দিকে ঠান্ডা চোখে তাকালেন। “অডিটের চিন্তা আমি করব। তুমি শুধু কাজটা করো।” কর্মীটি চুপ করে গেল। মিতালি সেন জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন। বাইরে সন্ধ্যার আলো ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছিল। তার মুখে এখন একটা শান্ত, কিন্তু দৃঢ় অভিব্যক্তি। তারপর তিনি ঘুরে দাঁড়িয়ে কর্মীদের দিকে তাকালেন। “কাল সকাল থেকে আবার শুরু করো। আরও জোরে।”