মরীচিকা ও মোহময়ী - অধ্যায় ৭৬
ওভাবে এক টানা লেখা যায় না। লেখালেখি অফিসের কাজের মতো যান্ত্রিক ব্যাপার নয় যে রোজ নির্দিষ্ট সময়ে লিখতে বসলে গড়গড় করে লেখা বেরিয়ে আসবে।
অনেক সময় এমন হয় দুদিন, তিনদিন চলে যায় মাথায় কিছুই আসে না। একদম ব্ল্যাঙ্ক থাকে। এটাকে রাইটার্স ব্লক বলে, এরকম দু-তিন মাস অবধিও চলতে পারে।
এটা ক্রিয়েটিভ জগতে ভীষণ কমন। নিজে বড় গল্প বা উপন্যাস লিখতে গেলে তুমি বুঝতে পারবে।
এই সাইটের 80% এর বেশি কারেন্ট লেখা গল্প সাহিত্যের পর্যায়ে পড়ে না। Character building, world building, plot development, story depth বলে কিছু নেই।
যারা এসব লেখে তারা নিজেদের ফ্যান্টাসি মেটাতে লেখে। সেটা মিটে গেলে গল্প অসমাপ্ত রেখে চলে যায়। রিডাররাও তথৈবচ। তোমার মতো খুব কম রিডার গঠনমূলক কমেন্ট দেয়।
আর গল্পটা যে পর্যায়ে আছে সেখানে ছোট চ্যাপ্টার লেখা অসম্ভব। এক একটা চ্যাপ্টার এক একটা দিনকে কভার করে। সেখানে সব চরিত্রকে দেখাতে হবে না ?
ভাল লেখা চাইলে সময় দিতেই হবে।
বিক্রমের পরিবারে ডায়নামিক বেশি কথাটা ভুল। অয়নের পরিবারের সদস্যদের জগত অনেক বড় আর বেশি বিস্তৃত। তাদের সাথে বাকি চরিত্রদের ইন্টারঅ্যাকশনের ফলে যে ডায়নামিক তৈরি হচ্ছে সেটা নিয়েই আপাতত গল্প যতটা লেখা হয়েছে তার বেশিরভাগটা। তবে এটা পরে কিছুটা পাল্টাবে।
তবে এটা ঠিক যে প্রধান চরিত্রগুলো সমান্তরালে চলছে। তার কারণ হচ্ছে এদের অনেকেরই ওয়ার্ল্ড বিল্ডিংয়ের প্রসেসে আছে বিশেষ করে অর্জুন আর অনন্যার মতো চরিত্র যারা পরে ইন্ট্রোডিউস হয়েছে। সেটা কমপ্লিট হলে এমনিই এদের ইন্টারঅ্যাকশন হবে।
এখন এদের সবাইকে নিজের নিজের জগতে আলাদা আলাদাভাবে দেখাতে হচ্ছে বলে লিখতে সময় বেশি লাগছে।
আর, অয়ন হোস্টেলের রাজনীতিতে জড়ালে আরো অনেক চরিত্র আসত। তখন রিডাররা কমপ্লেন করত না ?
তাছাড়া, আরো একটা কারণ আছে। সেটা হলো অয়ন ফেস্টের পরে একমাস হোস্টেলের ঘর থেকে বেরোয়নি। এখন ও যত স্বাভাবিক হয়ে উঠবে তত জড়িয়ে পড়বে। সেই সূত্রে কিছু নতুন চরিত্র আসবে। তবে আমি তার আগে প্লট কিছুটা এগিয়ে নিয়ে যাব।