জুলাই আন্দোলন - অধ্যায় ১১

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-73076-post-6191467.html#pid6191467

🕰️ Posted on Wed Apr 22 2026 by ✍️ Mr. X2002 (Profile)

🏷️ Tags:
📖 709 words / 3 min read

Parent
পর্ব ১১: পরিকল্পনা রাত আটটা বেজে গেছে। মকবুল তার বাড়ির বারান্দায় একটা পুরনো চেয়ারে দুলছিল। এক হাতে জ্বলন্ত বিড়ি, অন্য হাতে চায়ের কাপ। তার চোখের সামনে বারবার ভেসে উঠছিল শুধু একটাই মুখ — চৈতি। চৈতির নরম গাল, পুরু ঠোঁট, লজ্জায় লাল হয়ে ওঠা মুখ, আর সেই পাতলা ওড়নার নিচে যে আকৃতি দেখা গিয়েছিল — সবকিছু তার মাথার ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছিল। প্রতি মুহূর্তে তার শরীরে একটা অসহ্য জ্বালা অনুভব করছিল। চৈতির সঙ্গ পাওয়ার জন্য সে এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে। হঠাৎ বাইরের গেটে কলিংবেল বেজে উঠল। মকবুলের ঠোঁটে একটা চাপা হাসি ফুটে উঠল। যেন এই আওয়াজেরই অপেক্ষা করছিল সে। কুলসুম বেগম গেট খুলে দিয়ে অবাক হয়ে বলল, “আরে আপনারা! আসুন আসুন।” সে ভেতরে এসে চিৎকার করে ডাকল, “শুনছো? কবির ভাই আর কলেজের হেডমাস্টার এসেছে!” মকবুল চেয়ার থেকে উঠে পড়ল। “আরে আসতে দাও, আসতে দাও।” কবির মিয়া এই পৌরসভার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি, কলেজ কমিটির সভাপতি এবং চৈতির বান্ধবী মিরার বাবা। তার সাথে কলেজের হেডমাস্টারও এসেছে। তিনজন বসার পর প্রথমে কলেজের অবস্থা, ছাত্রছাত্রী, শিক্ষকদের নিয়ে সাধারণ কথাবার্তা শুরু হলো। কুলসুম বেগম তাদের জন্য চা নিয়ে এল। কবির মিয়াকে চিনি ছাড়া চা দিল, আর হেডমাস্টার ও মকবুলকে চিনি দিয়ে। “ভাই, খেয়ে যাবেন কিন্তু?” কুলসুম হেডমাস্টার ও কবির মিয়াকে বলল। কবির মিয়া হেসে বললেন, “আরে ভাবী, এত কষ্ট করবেন না।” কুলসুম বেগম মিষ্টি করে বলল, “ভাই এর জন্য বোন করবে না ত কার জন্য করবে। মকবুল চুপ করে চা খাচ্ছিল, কিন্তু তার মাথায় অন্য চিন্তা। সে অপেক্ষা করছিল সঠিক সময়ের জন্য। চা শেষ হওয়ার পর সে একটু গলা খাঁকারি দিয়ে বলল, “কবির ভাই, আসলে আজ আপনাদের ডেকেছি একটা গুরুতর বিষয় নিয়ে।” কবির মিয়া ও হেডমাস্টার দুজনেই মকবুলের দিকে তাকালেন। মকবুল চেয়ারে সোজা হয়ে বসে বলল, “কলেজের কিছু সমস্যা নিয়ে কথা বলতে চাই। বিশেষ করে… কয়েকজন অভিভাবকের ব্যাপারে।” তার চোখে একটা চাপা হিসাবি দৃষ্টি খেলে গেল। চৈতির ছবিটা আবার তার মনে ভেসে উঠল। এবার আর শুধু শরীর নয়, একটা পুরো পরিকল্পনা তার মাথায় ঘুরতে শুরু করেছে। কবির একটু বিরক্ত হয়ে,"মকবুল কি বলবা সব খুলে বল। তুমি জানো আমি এই অর্ধেক কথা পছন্দ করি না।" সে আবার একটু চায়ে চুমুক দেয়। তার মুখে একটা গম্ভীর ভাব। সে কবির মিয়া ও হেডমাস্টারের দিকে তাকিয়ে বলল, “কবির ভাই, হেডমাস্টার সাহেব, আসলে আমি আপনাদের ডেকেছি একটা জরুরি বিষয় নিয়ে। অনেক অভিভাবক আমাদের কলেজের পড়ার মান নিয়ে অভিযোগ করছে। বলছে পড়াশোনার মান খুব খারাপ। শুধু তাই নয়, কলেজে কোনো বনভোজন হয় না, কোনো এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটি নেই। তাই আমি ভাবছি, এবার কলেজের জন্য একটা বনভোজনের আয়োজন করলে কেমন হয়?” হেডমাস্টার মাথা নেড়ে বললেন, “হ্যাঁ মকবুল ভাই, আমারও এই পরিকল্পনা অনেকদিন ধরে ছিল। কিন্তু টাকার একটা বড় সমস্যা আছে।” মকবুল একটু হেসে বলল, “টাকা আমি কিছু দেব, কিন্তু…” সে ইচ্ছে করে কথা অসম্পূর্ণ রেখে কবির মিয়ার দিকে তাকাল। আসলে তার পুরো অভিনয়টাই ছিল কবির মিয়ার টাকা বের করার জন্য। কারণ কলেজ কমিটির সভাপতি হিসেবে কবির মিয়াকে দিতেই হবে। আর মকবুল ঠিক ই সফল হলো। মকবুলের প্ল্যান ঠিকমতো কাজ করল। কবির মিয়া গম্ভীরভাবে বললেন, “তোমরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছ, এটা খুবই ভালো সিদ্ধান্ত। আমি এই বনভোজনের সম্পূর্ণ খরচটা দেব। তোমরা চিন্তা করো না।” হেডমাস্টার উৎসাহিত হয়ে বলে উঠলেন, “আরে কবির ভাই, আপনি আসলেই বড় মনের মানুষ!” কবির মিয়া হেসে বললেন, “তোমরা একদিনের জন্য কোন জায়গাটা বেস্ট হবে, তার একটা খসড়া খরচ আমাকে পাঠিয়ে দিও।” মকবুলের ভেতরটা ছটফট করে উঠল। যদি শুধু একদিনের পিকনিক হয়, তাহলে তার পুরো পরিকল্পনা নষ্ট হয়ে যাবে। সে তাড়াতাড়ি বলে উঠল, “সব বার তো একদিনের করি। এবার ভাবছি এক রাত থাকার ব্যবস্থা করব। এতে ছেলেমেয়েরা অনেক বেশি আনন্দ পাবে।” কবির মিয়া ভুরু কুঁচকে বললেন, “তা বুঝলাম, কিন্তু এতগুলো পোলাপানকে সেফ রাখতে পারবে তো রাতে?” মকবুল আত্মবিশ্বাসের সাথে বলল, “পোলাপানের সাথে তাদের মা-বাবাকেও নেব। তাহলে তো সবাই সেফ থাকবে।” কবির মিয়া একটু ভেবে বললেন, “যআ ভালো বুঝ কর।” মকবুলের মনটা নেচে উঠল। সে মনে মনে বলল, “এবার চৈতি পালাবে কোথায়? এক রাত… এক রাতেই সব হবে।” এখন সেখানে নিরবতাম, এই মিটিং টা মকবুল যে কারণে রেখেছিল তা সমাধান হয়েছে। চায়ে এক চুমুক দিয়ে কবির মিয়া হেডমাস্টারের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আচ্ছা, আমার মেয়ে মিরার ছেলে মিরাজ কেমন পড়াশোনা করছে?” হেডমাস্টার তেল মাখানো গলায় বললেন, “মিরাজ তো পুরো আপনার মতো হয়েছে কবির ভাই। ক্লাসের সবচেয়ে জ্ঞানী ছেলে। ওকে দেখলেই আপনার কথা মনে পড়ে যায়।” কবির মিয়া হেডমাস্টারের তৈলাক্ত প্রশংসা শুনে গর্বে একটা হাসি দিলেন। তার মুখে সন্তুষ্টির ছাপ স্পষ্ট। মকবুল চুপ করে বসে ছিল, কিন্তু তার মাথায় এখন শুধু একটাই চিন্তা — কীভাবে এই বনভোজনকে এক রাতের প্রোগ্রাম করে চৈতিকে ফাঁদে ফেলা যায়।
Parent