নিষিদ্ধ বসন্ত - অধ্যায় ৪৩

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-73419-post-6205859.html#pid6205859

🕰️ Posted on Sun May 10 2026 by ✍️ Avi9695 (Profile)

🏷️ Tags:
📖 1027 words / 4 min read

Parent
পরের দিন বিকেলে আমরা ফারিনের বাসায় প্রেজেন্টেশন প্র্যাকটিস করতে গেলাম। আফরিন আন্টি বাইরে গিয়েছিলেন, তাই ঘরটা পুরোপুরি আমাদের। ফারিনের রুমে বড় টেবিলের সামনে ল্যাপটপ খুলে বসলাম। ফারিন সবাইকে অর্ডার দিয়ে শুরু করল, “চল, আজকে পুরো প্রেজেন্টেশনটা একবার রিহার্সাল করব। প্রত্যেকে নিজের অংশ বলবে। কোনো ভুল হলে সাথে সাথে বলবি।” আমরা ছয়জন বৃত্তাকারে বসলাম। ফারিন প্রথমে শুরু করল। সে Transactional Leadership নিয়ে বলতে শুরু করল। তার গলা দৃঢ়, চোখে লিডারের ভাব। আমি দেখছিলাম — তার টাইট টপসটা এখনো তার বুকের উপর আঁটসাঁট লেগে আছে। কাল রাতের সেই অসমাপ্ত মুহূর্তটা মনে পড়তেই আমার শরীরটা একবার কেঁপে উঠল। এরপর আমার টার্ন। আমি Transformational Leadership নিয়ে বললাম, “এই স্টাইলে লিডার নিজে পরিবর্তন হয়ে টিমকে অনুপ্রাণিত করে। আমাদের গ্রুপে এটা দেখা যায় যখন কেউ কারো দুর্বলতা দেখে তাকে সাপোর্ট করে। যেমন… আমরা যখন একসাথে পড়ি, তখন সবাই একে অপরের ভিতরের শক্তি বের করে আনি।” কথা বলতে বলতে আমি সাদিয়ার দিকে তাকালাম। তার চোখে সেই চেনা লুকানো আগুন। মিলি পাশ থেকে হালকা করে আমার হাতে নোটস দেখিয়ে দিল। তার আঙুল আমার আঙুলের সাথে হালকা ছুঁয়ে গেল। ফারিন আমার দিকে তাকিয়ে একটু হাসল — তার হাসিতে কালকের অসমাপ্ততা লুকিয়ে আছে। মিলি Charismatic Leadership নিয়ে বলল। তার গলায় সেই লেখকের স্বাভাবিকতা। সে বলল, “Charismatic লিডার তার ব্যক্তিত্ব দিয়ে সবাইকে টেনে নেয়। আমাদের গ্রুপে এটা আছে যখন কেউ গল্প বলে বা হাসায়।” সাদিয়া Servant Leadership নিয়ে বলতে গিয়ে একটু থেমে গেল। তার গলা নরম, “এখানে লিডার নিজেকে টিমের সেবক মনে করে। সে প্রথমে অন্যদের চাহিদা পূরণ করে। আমাদের গ্রুপে… যখন কেউ একা হয়ে যায়, তখন অন্যরা তার পাশে দাঁড়ায়।” ফারিয়া আর ঐশী তাদের অংশ বলল। সবাই মন দিয়ে শুনছে। কিন্তু আমার মনে হচ্ছিল — এই প্রেজেন্টেশনটা যেন আমাদের গ্রুপের আসল গল্পের উপর একটা পাতলা আবরণ। বাইরে থেকে দেখলে আমরা লিডারশিপের তত্ত্ব নিয়ে কথা বলছি। কিন্তু ভিতরে ভিতরে প্রত্যেকের চোখে চোখ পড়লেই সেই গোপন ডাইনামিক্সটা জেগে উঠছে। প্র্যাকটিস শেষ হওয়ার পর ফারিন বলল,   “ভালো হয়েছে। কাল আবার একবার করব।” সবাই উঠে পড়ল। কিন্তু আমি বসে রইলাম। মিলি আমার পাশে এসে ফিসফিস করে বলল,   “তোর Transformational অংশটা সত্যিই সুন্দর লাগছিল।” সাদিয়া দরজার কাছ থেকে আমার দিকে তাকিয়ে একটা ছোট্ট হাসি দিল। ফারিন আমার কানের কাছে এসে খুব আস্তে করে বলল,   “কাল যদি আবার একা পাই… তাহলে কালকের অসমাপ্তটা শেষ করব।” আমি শুধু হাসলাম। প্রেজেন্টেশনের প্র্যাকটিসটা শেষ হয়েছে। কিন্তু আমাদের গ্রুপের আসল ডাইনামিক্স কখনো শেষ হয় না। এটা চলতেই থাকে — পড়াশোনার আড়ালে, হাসির আড়ালে, চোখাচোখির আড়ালে। পরেরদিন আবারও সবাই গেলাম ফারিনের বাসায়। প্রেজেন্টেশন প্র্যাকটিস চলছিল ফারিনের রুমে। আমরা ছয়জন বৃত্তাকারে বসে একের পর এক অংশ বলে যাচ্ছিলাম। ফারিনের ল্যাপটপে স্লাইড চলছে, আমি Transformational Leadership-এর অংশটা আবারও বলছিলাম। গলাটা একটু জোরে, চোখে ভিশনের কথা বলার ভাব এনে বলছিলাম, “এই স্টাইলে লিডার শুধু নির্দেশ দেয় না, সে নিজে পরিবর্তন হয়ে পুরো গ্রুপকে অনুপ্রাণিত করে। আমাদের গ্রুপেও দেখা যায় — যখন কেউ পিছিয়ে পড়ে, তখন অন্যরা তার পাশে দাঁড়ায়, তাকে এগিয়ে নেয়।” ঠিক তখন দরজায় হালকা নক হল। আফরিন আন্টি ঢুকলেন। পরনে সেই হালকা ক্রিম সিল্কের সালোয়ার কামিজ, চুল খোলা, হাতে একটা ট্রে — স্ন্যাকস আর জুস। উনি হাসতে হাসতে বললেন, “বিরতি নাও সবাই। খেয়ে নাও। আমি একটু দেখি তোমাদের প্র্যাকটিস।” উনি ট্রেটা টেবিলে রেখে একপাশে সোফায় বসলেন। আমরা একটু থেমে গেলাম। কিন্তু আন্টি হাত নেড়ে বললেন, “চালিয়ে যাও, আমি শুনছি।” আমি আবার শুরু করলাম। আন্টির চোখ আমার দিকে। উনি মন দিয়ে শুনছেন। আমি বলে যাচ্ছিলাম, কিন্তু মনে মনে টের পাচ্ছিলাম — উনার চাহনিটা একটু আলাদা। যেন আমার কথাগুলো উনাকে ছুঁয়ে যাচ্ছে। আমার অংশ শেষ হওয়ার পর আন্টি হাততালি দিয়ে উঠলেন। “অসাধারণ রাহাত! তুমি যেভাবে বললে… এত সুন্দর করে, এত গভীরতা দিয়ে… সত্যিই ইমপ্রেসিভ। Transformational Leadership-টা তুমি এত সহজ করে বোঝালে যে আমারও মনে হল আমি যেন একটা লিডারশিপ ক্লাসে বসে আছি। তোমার কথায় এমন একটা আত্মবিশ্বাস আছে, এমন একটা ভিশন… খুব ভালো লাগল।” আমি লজ্জায় হেসে বললাম, “ধন্যবাদ আন্টি।” আন্টি হাসতে হাসতে বললেন, “না না, সত্যি বলছি। ফারিন তোমার কথা বলেছিল, কিন্তু আজ নিজে দেখে বুঝলাম তুমি সত্যিই আলাদা। এই বয়সে এত পরিণত চিন্তা… খুব কম ছেলের মধ্যে দেখা যায়।” উনি উঠে গিয়ে আমার কাঁধে হাত রেখে হালকা চাপ দিলেন। সেই ছোঁয়ায় একটা উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ল। উনার পারফিউমের গন্ধটা আবার নাকে এল। “তোমার এই অংশটা যদি আসল প্রেজেন্টেশনে দাও, তাহলে সবাই মুগ্ধ হয়ে যাবে।” ফারিন পাশ থেকে হাসল, কিন্তু তার চোখে একটা অদ্ভুত ভাব। সাদিয়া আর মিলি চুপ করে শুনছিল। আন্টি আরেকবার আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “আমি মাঝে মাঝে এসে দেখব। তোমাদের প্র্যাকটিসটা খুব ভালো লাগছে। বিশেষ করে রাহাতের অংশ।” উনি ট্রে থেকে জুস দিয়ে গেলেন, তারপর দরজার দিকে যেতে যেতে আরেকবার পিছন ফিরে তাকালেন। সেই চাহনিতে প্রশংসার সাথে আরও কিছু মিশে ছিল। আমি চুপ করে বসে রইলাম। প্র্যাকটিস আবার শুরু হল, কিন্তু আমার মাথায় এখন শুধু আফরিন আন্টির সেই প্রশংসা আর ছোঁয়াটা ঘুরছে। প্রেজেন্টেশনের দিনটা এসে গেল। ক্লাসরুমে স্যারের সামনে আমরা ছয়জন দাঁড়িয়ে আছি। পাওয়ারপয়েন্ট স্ক্রিনে আমাদের স্লাইড চলছে। ক্লাসে অন্য ছাত্রছাত্রীরা বসে আছে। স্যার চশমার ফাঁক দিয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছেন। বাইরে থেকে দেখলে আমরা একটা পুরোপুরি প্রফেশনাল গ্রুপ — নোটস, স্লাইড, কনফিডেন্ট পোসচার। কিন্তু আমার ভিতরে একটা ঝড় চলছে। ফারিন প্রথমে শুরু করল। Transactional Leadership নিয়ে বলতে বলতে সে তার স্বাভাবিক বোল্ড ভঙ্গিতে হাত নাড়ছে। তার চোখ আমার দিকে একবার পড়ল, কিন্তু সেখানে কোনো অস্বাভাবিকতা নেই। যেন কাল রাতের সেই অসমাপ্ত মুহূর্ত কখনো হয়নি। এরপর আমার টার্ন। আমি Transformational Leadership-এর অংশটা নিলাম। স্লাইডে ক্লিক করে বলতে শুরু করলাম, “Transformational লিডারশিপে লিডার নিজে পরিবর্তন হয়ে পুরো গ্রুপকে অনুপ্রাণিত করে। সে শুধু নির্দেশ দেয় না, সে প্রত্যেক সদস্যের ভিতরের সম্ভাবনা বের করে আনে। আমাদের গ্রুপেও এটা দেখা যায় — যখন কেউ পিছিয়ে পড়ে, তখন অন্যরা তার পাশে দাঁড়ায়। আমরা একে অপরকে শুধু পড়াশোনায় নয়, জীবনের অনেক গভীর জায়গায়ও সাপোর্ট করি।” কথা বলতে বলতে আমি সাদিয়ার দিকে তাকালাম। সে চুপচাপ নোট নিচ্ছে। তার চোখে কোনো ইঙ্গিত নেই। যেন সেই ভিডিও কলের রাত, তার কাঁপা শরীর, তার “আমি আসছি রাহাত” — সবকিছু কখনো হয়নি। মিলির পাশে দাঁড়িয়ে আমি Charismatic Leadership-এর অংশ বলছিলাম। সে হাসছে, কিন্তু তার হাসিটা একদম নরমাল। যেন তার বাসায় সেই রাতের ছোঁয়া, তার লাজুক নিঃশ্বাস কখনো আমাদের মধ্যে ছিল না। প্রেজেন্টেশন শেষ হওয়ার পর স্যার হাততালি দিলেন। “খুব ভালো হয়েছে। রিয়েল লাইফ উদাহরণগুলো খুব সুন্দর করে দিয়েছ। বিশেষ করে রাহাতের Transformational অংশটা।” আমরা সবাই হাসলাম। ক্লাসের অন্যরা অভিনন্দন জানাল। ফারিন আমার কাঁধে হাত রেখে বলল, “ভালো হয়েছে রে।” কিন্তু আমার মনে হচ্ছিল — এই প্রেজেন্টেশনটা যেন আমাদের আসল জীবনের উপর একটা পাতলা আবরণ মাত্র। বাইরে আমরা একটা সফল গ্রুপ। ভিতরে আমরা একটা জটিল, অসমাপ্ত আকাঙ্ক্ষার জালে আটকে আছি।
Parent