কাশীপুরের কান্ড - অধ্যায় ৩৯

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-74150-post-6242786.html#pid6242786

🕰️ Posted on Fri Jun 19 2026 by ✍️ Toxic boy (Profile)

🏷️ Tags:
📖 531 words / 2 min read

অধ্যায় ৩৮ : সকালের ছায়া শীতের সকাল। কাশীপুর গ্রামের ওপর তখনও হালকা কুয়াশার আস্তরণ। ⸻ মুখার্জী বাড়ির উঠোনে বসে রমাপদ সাইকেলের চেইনে তেল দিচ্ছেন। ⸻ আজ কলেজে যেতে হবে। চেইনটা কয়েকদিন ধরেই শব্দ করছিল। ⸻ এক হাতে কাপড়। অন্য হাতে তেলের শিশি। ⸻ মাঝে মাঝে প্যাডেল ঘুরিয়ে দেখে নিচ্ছেন সব ঠিকঠাক হচ্ছে কি না। ⸻ রান্নাঘরের উনুনে আগুন জ্বলছে। ⸻ প্রতিমা খুন্তি হাতে রান্না করছেন। ⸻ কড়াইয়ে তেল ছ্যাঁৎ ছ্যাঁৎ শব্দ করছে। ⸻ পাশে কাটা আলু। ভেন্ডি। পেঁয়াজ। আদা-রসুন বাটা। ⸻ সকালের রান্নার ব্যস্ততা। ⸻ ঘরের মধ্যে ভাতের গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। ⸻ আজ অদ্ভুতভাবে রতন অনেক সকালেই উঠে পড়েছে। ⸻ সাধারণত প্রতিমাকে দুই-তিনবার ডাকতে হয়। ⸻ আজ তার দরকার হয়নি। ⸻ উঠোনের এক কোণে স্নানের জন্য জলভর্তি বালতি রাখা। ⸻ পাশে সাবান। তেলের শিশি। গামছা। ⸻ সবকিছু প্রস্তুত। ⸻ তবু রতন সেখানে যায়নি। ⸻ সে চুপচাপ উঠোনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে। ⸻ কী যেন ভাবছে। ⸻ কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। ⸻ প্রতিমা একবার তাকিয়ে হেসে বললেন, — কী রে? আজ না ডাকতেই উঠে বসে আছিস? ⸻ কোন চিন্তায় ডুবে গেলি আবার? ⸻ রমাপদ চেইনে তেল দিতে দিতে বললেন, — শরীর ঠিক আছে তো? ⸻ — কেমন যেন দেখাচ্ছে। ⸻ — দরকার হলে কবিরাজমশায়ের কাছে গিয়ে আয়। ⸻ রতন মাথা তুলল। ⸻ তার গলা পুরো স্বাভাবিক। ⸻ — না বাবা। ⸻ — শরীর ঠিকই আছে। ⸻ প্রতিমা হেসে বললেন, — আজ বোধহয় খেলার চিন্তা। ⸻ — না হলে কালকের হারার শোধ নেবে ভেবে বসে আছে। ⸻ বলতে বলতে তিনি আবার খুন্তি নাড়তে লাগলেন। ⸻ কথাগুলো শুনে রতনও হালকা হাসল। ⸻ কিন্তু সেই হাসি চোখ পর্যন্ত পৌঁছাল না। ⸻ কিছুক্ষণ পরে সে ধীরে ধীরে ঘরের ভেতরের দিকে হাঁটতে লাগল। ⸻ দরজার কাছে গিয়ে হঠাৎ থেমে গেল। ⸻ একবার ঘাড় ঘুরিয়ে উঠোনের দিকে তাকাল। ⸻ রমাপদ তখনও সাইকেল নিয়ে ব্যস্ত। ⸻ প্রতিমা রান্নায়। ⸻ কারও চোখ তার দিকে নেই। ⸻ রতনের ঠোঁট খুব আস্তে নড়ল। ⸻ এত আস্তে যে শব্দ প্রায় শোনা যায় না। ⸻ কয়েকটা অস্পষ্ট শব্দ। ⸻ বিড়বিড়ানি। ⸻ তারপর সে ঘরের ভেতরে ঢুকে গেল। ⸻ ঠিক তখনই… ⸻ প্রতিমার হাতের খুন্তি থেমে গেল। ⸻ কেন থামল তিনি জানেন না। ⸻ হঠাৎ যেন মনে হলো— ঘরের ভেতরে কিছু একটা কাজ বাকি আছে। ⸻ খুব জরুরি। ⸻ এখনই যেতে হবে। ⸻ তিনি ধীরে ধীরে কাঠের পিঁড়ি থেকে উঠে দাঁড়ালেন। ⸻ পাশে রাখা পেঁয়াজ, আদা-রসুন বাটা, লঙ্কা, জিরে বাটা সব সেখানেই রইল। ⸻ উনুনে আগুনও জ্বলছে। ⸻ তবু তিনি যেন অজান্তেই ঘরের দিকে পা বাড়ালেন। ⸻ রমাপদ একবার মুখ তুলে তাকালেন। ⸻ প্রতিমাকে ভেতরের দিকে যেতে দেখে বললেন, — কী হলো? ⸻ কিছু লাগবে নাকি? ⸻ প্রতিমা উত্তর দিলেন না। ⸻ আসলে তিনি নিজেও জানতেন না কেন যাচ্ছেন। ⸻ শুধু মনে হচ্ছিল… যেতে হবে। ⸻ একবার। ⸻ মাত্র একবার। ⸻ রমাপদ কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইলেন। ⸻ তারপর আবার সাইকেলের চেইন মুছতে শুরু করলেন। ⸻ ব্যাপারটা আর মাথায় রাখলেন না। ⸻ কিন্তু ঘরের অন্ধকার ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা রতনের মুখে তখন এক অদ্ভুত স্থিরতা। ⸻ সে দরজার ফাঁক দিয়ে মায়ের এগিয়ে আসা দেখছিল। ⸻ আর তার বুকের গভীরে… অন্য কারও চিন্তা ধীরে ধীরে জেগে উঠছিল। ⸻ “এখনও খুব দুর্বল…” ⸻ “তবু প্রভাব রয়ে গেছে…” ⸻ “আরও সময় চাই…” ⸻ বাইরে শীতের রোদ উঠছিল। ⸻ কাশীপুরের মানুষ তাদের দিনের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ছিল। ⸻ কেউ জানত না— একটা অদৃশ্য কু-প্রভাব আজ আবার নিজের অস্তিত্বের ছোট্ট একটা প্রমাণ রেখে গেল।