ছায়ার আড়ালে আগুন-Erotic Thriller [Part-4: অন্তিম যুদ্ধ] - অধ্যায় ৩১
গল্প: "ছায়ার আড়ালে আগুন" (পার্ট-৪: অন্তিম যুদ্ধ)
ত্রিশ পরিচ্ছেদ: স্বাধীনতা দিবসের দিন
স্বাধীনতা দিবসের সকালটা রোদেলা। শহরের একটা পুরোনো মাঠে লাল-সাদা-সবুজ পতাকা উড়ছিল। মাঠের একপাশে বড় বড় টেবিল সাজানো। তার ওপর স্তূপ করে রাখা হয়েছে জামা-কাপড়, শাড়ি, লুঙ্গি, শার্ট-প্যান্ট। আরেকটা টেবিলে ছোট ছোট প্যাকেটে চকলেট, বিস্কুট আর কিছু খেলনা।
রানি সাদা শাড়ি পরে এসেছিল। তার গলায় একটা সাদা ফুলের মালা। চুলে সাদা ফুল গোঁজা। তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল তার কয়েকজন বিশ্বস্ত লোক। মাঠে ভিড় জমে গিয়েছিল। গরিব মহিলারা, বাচ্চারা, বয়স্ক মানুষ — সবাই লাইন দিয়ে দাঁড়িয়েছিল।
রানি নিজে হাতে জামা-কাপড় বিলি করছিল। একজন মহিলার হাতে একটা শাড়ি তুলে দিয়ে বলল, “এটা নিন। আপনার মেয়ের জন্যও একটা নিয়ে যান।” মহিলাটি দুই হাত জোড় করে নমস্কার করল। রানি হাসল। তারপর একটা ছোট ছেলেকে ডেকে তার হাতে একটা চকলেটের প্যাকেট দিল। ছেলেটি চকলেটটা বুকে জড়িয়ে ধরে লজ্জা করে হাসল।
রানি প্রত্যেকের সাথে দু-একটা কথা বলছিল। “কেমন আছেন? বাচ্চারা কলেজে যায়?” “এই জামাটা আপনার স্বামীর জন্য।” তার গলায় একটা নরম সুর ছিল। কিন্তু তার চোখ দুটো সবসময় চারপাশটা দেখছিল। কে আসছে, কে কী বলছে, কারা ছবি তুলছে — সবকিছু তার নজরে ছিল।
একজন বয়স্কা মহিলা তার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে গেল। রানি তাকে ধরে তুলে বলল, “এসব করবেন না মা। আপনি আমার মায়ের বয়সী।” মহিলাটি চোখে জল নিয়ে বলল, “তুমি আমাদের জন্য এত কিছু করছো বাবা।”
রানি হাসল। তারপর একটা ছোট মেয়েকে কোলে তুলে নিয়ে তার গালে চুমু খেল। মেয়েটি তার হাতে চকলেটের প্যাকেট নিয়ে খুশি হয়ে হাসছিল। রানি তার ছবি তুলে ফেলল।
মাঠের একপাশে দাঁড়িয়ে কয়েকজন স্থানীয় নেতা-কর্মী কথা বলছিল। তাদের মধ্যে একজন ফিসফিস করে বলল, “রানি এখন ভালোই চলছে। গরিবদের কাছে তার নাম ছড়াচ্ছে।” আরেকজন বলল, “বিন্দু মাসির সময় এমন কিছু দেখিনি। এখন তো সবকিছু অন্যরকম।”
রানি এসব কথা শুনতে পাচ্ছিল না, কিন্তু তার মুখে একটা শান্ত হাসি ছিল। সে জানত, এই দান-খয়রাত শুধু দয়া নয়। এটা তার নিজের জায়গা তৈরি করার একটা উপায়। গরিব মানুষের ভোট, সমর্থন, আর সবচেয়ে বড় কথা — তার নামের চারপাশে একটা ভালো ছবি।
বাচ্চারা চকলেট নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছিল। মায়েরা জামা-কাপড় নিয়ে খুশি হয়ে কথা বলছিল। রানি প্রত্যেকের সাথে একটু করে সময় দিচ্ছিল। একজন বৃদ্ধাকে চেয়ারে বসিয়ে তার হাতে একটা শার্ট তুলে দিল। বৃদ্ধটি বলল, “তুমি আমাদের মেয়ের মতো হয়ে গেছো।”
রানি বলল, “আপনারা আমার পরিবার।”
দুপুরের দিকে বিলি শেষ হল। মাঠটা খালি হয়ে যাচ্ছিল। রানি তার লোকদের বলল সবকিছু গুছিয়ে নিতে। সে নিজে একটা ছোট ছেলেকে ডেকে তার হাতে শেষ প্যাকেটের চকলেট দিল। ছেলেটি বলল, “আপনি খুব ভালো।”
রানি তার মাথায় হাত রাখল।
রানি চোখ বন্ধ করল। তার মনে পড়ল বিন্দু মাসির কথা। বিন্দু মাসি কখনো এমন কিছু করেনি। সে শুধু ভয় দেখিয়ে, টাকা আদায় করে চলত। রানি ভাবল — এখন সময় বদলেছে। ভয় দেখিয়ে চলা যায়, কিন্তু ভালোবাসা কিনে নেওয়া যায়। আর এই ভালোবাসাই একদিন তার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হবে।
স্বাধীনতা দিবসের এই দান শেষ হয়েছে। কিন্তু রানির জন্য নতুন একটা অধ্যায় শুরু হল।