ছায়ার আড়ালে আগুন-Erotic Thriller [Part-4: অন্তিম যুদ্ধ] - অধ্যায় ৪৩
গল্প: "ছায়ার আড়ালে আগুন" (পার্ট-৪: অন্তিম যুদ্ধ)
ত্রিচল্লিশ পরিচ্ছেদ: রানির দান
সকালের রোদ তখনও নরম। রানির বাড়ির সামনের উঠোনটা পরিষ্কার। কয়েকজন মহিলা বসে আচারের বোতল সাজাচ্ছিল। রানি নিজেও সেখানেই ছিলেন। পরনে সাদা-লাল শাড়ি, চুল বাঁধা, মুখে শান্ত ভাব। বিন্দুবালার মৃত্যুর পর থেকে তিনি এই বাড়িটা আর আগের মতো রাখেননি। মদের কারবার বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন শুধু আচার, জ্যাম আর জেলির ব্যবসা। আর সাথে চলে দরিদ্র মানুষদের সাহায্যের কাজ।
এমন সময় উঠোনের গেটের কাছে একজন লোক এসে দাঁড়াল। বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। পরনে ময়লা গেঞ্জি আর লুঙ্গি। হাতে একটা পুরনো ফাইলের মতো কাগজ। মুখটা ক্লান্ত ও অসহায়।
রানি তার দিকে তাকিয়ে বললেন, “কী হয়েছে?”
লোকটি কাছে এসে হাত জোড় করে দাঁড়াল। গলা কাঁপছিল।
“মাগো… আমার মেয়ের বিয়ে। তারিখ হয়ে গেছে। কিন্তু হাতে টাকা নেই। বরপক্ষ জামাকাপড় আর কিছু আসবাব চাইছে। আমি… আমি আর কিছু জোগাড় করতে পারিনি।”
রানি তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। লোকটির চোখে জল। তিনি আস্তে করে বললেন, “নাম কী তোমার?”
“হরিপদ। আমি ওই পুকুরপাড়ের দিকে থাকি। আপনার আচারের দোকানে মাঝে মাঝে কাজ করি।”
রানি মাথা নাড়লেন। তিনি ভেতরে গিয়ে কিছুক্ষণ পর ফিরে এলেন। হাতে একটা ছোট প্লাস্টিকের ব্যাগ। সেটা হরিপদের হাতে দিয়ে বললেন,
“এর মধ্যে পঞ্চাশ হাজার টাকা আছে। মেয়ের বিয়ের জন্য খরচ করো। জামাকাপড় আর যা দরকার, কিনে নিও।”
হরিপদের হাত কাঁপছিল। সে ব্যাগটা খুলে নোটগুলো দেখল। তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। সে আর কথা বলতে না পেরে রানির পায়ের কাছে বসে পড়ল। দুই হাত দিয়ে রানির পা জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করতে লাগল।
“মাগো… আপনি মানুষ নন। আপনি দেবতা। আমার মেয়ের বিয়ে আপনিই বাঁচালেন। আমি জন্মে… জন্মে আপনার এই দয়া শোধ করতে পারব না।”
রানি তার মাথায় হাত রাখলেন। গলা নরম করে বললেন,
“উঠো। এত কান্না করো না। মেয়ের বিয়ে ভালো করে দিও। আর যদি কিছু দরকার হয়, আবার এসো।”
হরিপদ উঠে দাঁড়িয়ে বারবার নমস্কার করতে লাগল। তারপর ব্যাগটা বুকে চেপে ধরে দ্রুত গেটের দিকে চলে গেল। উঠোনে যারা কাজ করছিল, তারা সবাই এই দৃশ্য দেখছিল। কয়েকজন মহিলা রানির দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ছিল। তাদের চোখে সম্মান ও কৃতজ্ঞতা।
রানি চুপ করে সেই লোকটাকে যেতে দেখলেন। তার মুখে কোনো বড় হাসি ছিল না। শুধু একটা শান্ত, ক্লান্ত অভিব্যক্তি। তিনি জানতেন, এই ত্রিশ হাজার টাকা তার ব্যবসার কাছে কিছুই না। কিন্তু এই ছোট ছোট দানই তাকে মানুষের চোখে বড় করে তুলছে। ধীরে ধীরে তার নাম ছড়াচ্ছে।
ভেতরে তিনি ঢুকলেন। একা হয়ে জানালার কাছে দাঁড়িয়ে ভাবলেন।
রানি চোখ বন্ধ করলেন। বাইরে হরিপদের কান্নার শব্দ এখনো কানে বাজছিল। তিনি জানতেন, আজকের এই দান শুধু একটা দান নয়। এটা তার ভবিষ্যতের ভিত্তি।