ছায়ার আড়ালে আগুন-Erotic Thriller [Part-4: অন্তিম যুদ্ধ] - অধ্যায় ৮৫
গল্প: "ছায়ার আড়ালে আগুন" (পার্ট-৪: অন্তিম যুদ্ধ)
পঞ্চাশীতি পরিচ্ছেদ: রায় কেমিক্যালস
রায় কেমিক্যালসের সামনে অংশুমানের জিপ থামল।
ছোটখাটো একটা গুদাম-সামনের অফিস। সাইনবোর্ড পুরনো, রং উঠে গেছে। বাইরে কয়েকটা ড্রাম স্তূপ করা। ভেতরে ঢুকতেই রাসায়নিকের তীব্র, ঝাঁঝালো গন্ধ নাকে লাগল। কয়েকজন কর্মচারী ব্যস্ত—কেউ মাল নামছে, কেউ খাতায় লিখছে। অংশুমান সোজা ভেতরের অফিসের দিকে এগোলেন। দরজায় হালকা টোকা দিয়ে ঢুকলেন।
মালিক রমেশ রায় চেয়ারে বসে হিসাবের খাতা দেখছিলেন। অংশুমানকে দেখে চশমা সরিয়ে উঠে দাঁড়ালেন। মুখে একটা বিস্ময়ের ছাপ।
“বড়বাবু? এ সময় এখানে… কী হয়েছে?”
অংশুমান পরিচয়ের অপেক্ষা না করে সরাসরি বললেন, “আপনাদের একটা নির্দিষ্ট রাসায়নিকের সেলস রেকর্ড দেখুন। যেটা কীটনাশক তৈরিতে ব্যবহার হয়। সাম্প্রতিক বিক্রি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।”
রমেশ রায় একটু থমকে গেলেন। চোখ বড় হয়ে গেল। তারপর তাড়াতাড়ি কম্পিউটার চালু করে ফাইল খুললেন। কয়েক মিনিট খুঁজলেন। কীবোর্ডে আঙুল চালাতে চালাতে মাথা নাড়ছিলেন। শেষে স্ক্রিন ঘুরিয়ে অংশুমানকে দেখালেন।
“হুম! স্যার দেখুন,” তিনি আঙুল দিয়ে পয়েন্ট করলেন, “দশ দিন আগে একজন নিয়ে গেছেন। সীমিত পরিমাণ। সব কাগজপত্র ঠিক আছে। আইডিও দেখানো হয়েছে।”
অংশুমান টেবিলের কাছে এগিয়ে নামটা পড়লেন। অপরিচিত। কোনো চেনা নাম নয়। তিনি চোখ সংকুচিত করলেন। কপালে ভাঁজ পড়ল।
“কেনার সময় ভুয়ো নাম তো ব্যাবহার করতে পারে। আইডিও নকল হতে পারে।”
রমেশ রায় একটু অস্বস্তিতে পড়লেন। “আমরা তো আইডি চেক করি, স্যার। কিন্তু এত কঠোরভাবে…”
“সেই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ আছে?” অংশুমান জিজ্ঞেস করলেন। চোখে কোনো রকম নমনীয়তা নেই।
“আছে, স্যার। পনেরো দিনের ফুটেজ রাখি। একটু সময় দিন।”
রমেশ রায় অন্য কম্পিউটারে সিসিটিভি ফোল্ডার খুললেন। তারিখ সিলেক্ট করে ভিডিও চালু করলেন। কালো-সাদা ছবি। দোকানের কাউন্টার। লোকজন আসছে-যাচ্ছে। কেউ মাল নিয়ে যাচ্ছে, কেউ কথা বলছে। অংশুমান চেয়ার টেনে বসলেন। শরীর এগিয়ে দিলেন। চোখ স্ক্রিনে আটকে গেল। হাত মুঠো করা।
কয়েক মিনিট পর একজন লোক কাউন্টারে এসে দাঁড়াল। মুখ পুরোপুরি দেখা যাচ্ছে। শার্টের কলার উঁচু—অংশুমান চিনতে পারলেন।
তিনি অবাক হলেন না।
এই ব্যক্তি তার সন্দেহের তালিকাতেই ছিল। অনেক আগে থেকেই।
অংশুমান স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইলেন। মুখ পাথরের মতো। ভেতরে একটা ঠান্ডা, ধীর রাগ জমে উঠছিল। তিনি জানতেন—এবার শিকার কাছাকাছি। প্রমাণ হাতে এসে গেছে।
“কপি করে দিন,” তিনি রমেশ রায়কে বললেন। গলা শান্ত, কিন্তু শক্ত। “এখনই। পেনড্রাইভে।”
রমেশ রায় তাড়াতাড়ি পেনড্রাইভে ফুটেজ কপি করতে লাগলেন। হাত একটু কাঁপছিল। অংশুমান উঠে দাঁড়ালেন। জানালার বাইরে রাস্তা। তিনি একবার চোখ বন্ধ করলেন। তারপর চোখ খুলে দরজার দিকে এগোলেন।
পেনড্রাইভ হাতে নিয়ে তিনি বাইরে বেরিয়ে গেলেন। রোদ চোখে লাগল। জিপের দরজা খুলে উঠে বসলেন। ইঞ্জিন স্টার্ট দিলেন।
এবার আর অনুমান নয়। প্রমাণ হাতে। তিনি জানেন, পরের পদক্ষেপ কী।