পেয়ারা বাগানে মা ও ছেলে - অধ্যায় ১২
বাবা- হ্যা যাও তবে, আমাকে খাইয়ে দিয়ে তোমার মা চলে যাবে কেমন।
আমি- মা বাইরে আসো ওইগুলো একটু মাথায় তুলে দাও আমি নিয়ে যাই তুমি বাবাকে খাইয়ে তারপর এস কেমন।
মা- হ্যা চল বলে আমার সাথে বাইরে এল।
আমি- দেখেছ ব্যাগে কি কি এনেছি বলে ব্যাগ মায়ের হাতে দিয়ে আমি আমার প্যান্ট পরে নিলাম সাথে গামছা নিলাম। এবং মাকে বললাম এর এক সেট পরে আসবে তুমি, কালকের মাপ এনেছি আশাকরি তোমার ফিট হবে।
মা- হাতে নিয়ে নেড়ে চেড়ে দেখে নিয়ে ইস দ্যাখ কি এনেছে এই পরে কাজে যাবো এত সুন্দর জিনিস। তোমার বাবা এত ভালো জিনিস কোনদিন দেয় নাই, তুমি দিলে তাই পরে কাজে যাবো।
আমি- মায়ের মুখে তুমি ডাক শুনে মনটা ভরে গেল, এর আগে মা কোনদিন আমাকে তুমি বলেনি সব সময় তুই বলত। মনে মনে ভাবছি কিন্তু মাকে কিছু বলছিনা।
মা- কি হল কিছু বলছ না যে পরে পড়লে হত না।
আমি- তোমাকে কোন কাজ করতে হবেনা কোন নোংরা তোমার গায়ে লাগবেনা, তুমি শুধু আমার কাছে থাকবে তাহলেই হবে।
মা- একটু অভিমানী শুরে বলব আমি বসে থাকবো আর তুমি কাজ করবে তাই হয়।
আমি- কেন তুমি জীবনে অনেক কাজ করেছ আর তোমাকে কাজ করতে হবেনা রান্না বান্নায় কম কষ্ট তারপর আর তোমাকে কিছু করতে হবেনা।
মা- যাক আমার ছেলে যখন মায়ের কষ্ট বুঝেছে আমার আর কোন চিন্তা নেই, তবে তুমি বলে দাও কোন জোড়া পরে আসবো, আর শাড়িও নতুন পড়ব বলছ।
আমি- হ্যা বলে লাল ব্লাউজ লাল ব্রা আর লাল প্যান্টি দিয়ে বললাম এই কয়টা পরে শাড়ি পরে আসবে।
মা- ইস কি পাতলা শাড়ি এনেছে এ পড়লে তো সব দেখা যাবে।
আমি- আরে না তুমি পরেই চলে আসবে বাগানে থাকবো তুমি আর আমি আবার ফিরে এসে খুলে রেখে দেবে, তারপর বাড়ির শাড়ি পড়বে কোন অসবিধা হবেনা।
মা- তুমি কি সব এনেছ এর আগে এইভাবে কিছু আমি পড়েছি সত্যি বলছি লজ্জা করছে আমার। বাড়ির শাড়ি পরে আসি তোমাকে শাহাজ্য করতে পারবো।
আমি- না মা এটা পরেই আসবে তুমি না হলে কিন্তু আমি দুঃখ পাবো, অনেক আশা নিয়ে কিনেছি, এটা পড়লে তোমাকে খুব সুন্দর লাগবে, আয়নায় একবার দেখে এস তুমি।
মা- না দরকার নেই তুমি দেখলেই হবে তোমার জন্য পড়ব শুধু।
আমি- মায়ের গালে একটু হাত বুলিয়ে বললাম আমার লক্ষ্মী মা তুমি। দাও এবার তুলে দাও মাথায় সব একবারে নিয়ে যাবো আসার সময় তুমি শুধু দা টা নিয়ে আসবে কেমন।
মা- বলল মা লক্ষ্মী হলে মায়ের ছেলে তো কার্ত্তিক তাইনা। আচ্ছা সোনা বাবা তোমার মা পরেই আসবে এই নাও বলে বোঝা মাথায় তুলে দিয়ে বলল যাও আমি তোমার বাবাকে খাইয়ে আসছি। একা একা পারবে তো।
আমি- বনোঝা মাথায় নিয়ে গত বছর তো একাই করেছি তাইনা তবে তুমি আসলে আমার কাজ করতে ভালো লাগেব।
মা- আমার পাগল ছেলে মা সব সময় ছেলের সাথে থাকতে চায় যদি এতদিন পরে বুঝলে তুমি, আরো আগে বোঝা উচিৎ ছিল। যাক তাও বুঝেছ ভালই যাও সোনা আমি ঘরে গিয়ে তোমার বাবাকে খাইয়ে আসছি এক ঘন্টা লাগবে হয়ত আমার।
আমি- হ্যা হ্যা তুমি সব গুছিয়েই আসবে সুন্দর করে শাড়ি আর ভেতরের সব গুলো পরে।
মা- ঠিক আছে আর দাড়িয়ে থেকোনা অনেক ভারী গিয়ে কাজ শুরু কর আমি ঘরে যাচ্ছে।
আমি- আচ্ছা বলে সোজা বাগানের দিকে রওয়ানা দিলাম আর গিয়েই মনের আনন্দে খুটি পুতে খরের চালা রেডি করে নিলাম। মা আসলে ধরে উপরে তুলে দেবো আর বাধন দেবো। এরপরে তিন্দিকে বেড়াও দিয়ে দিলাম। মা তবুও আসছে না। তাই বাধ্য হলে মাজখানে মাচা করতে লাগলাম। খুটি পুতে বাঁশ দিয়ে তারুপর তক্তা বসিয়ে দিলাম। এরপর মাচার উপরে বসলাম। এরপর রাস্তার দিকে তাকালাম। রাস্তা তো নয় সরু পথা আমাদের হাটাচলার জন্য, বাড়ি থেকে এই বাগান পর্যন্ত আমাদের জায়গা। নৌকায় আসা যায় আবার হেটেও আসা যায়। নৌকায় খুব বর্ষা হলে আসি না হলে হেটেই আসি। এইত এইবার মাকে দেখতে পাচ্ছি আসছে, উফ কি অপূর্ব লাগছে আমার মাকে দেখতে। অনেকটা দূরে এখনও তবুও দেখতে পাচ্ছি মাকে।