ক্ষমতার কফিন - অধ্যায় ৭

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-73571-post-6246838.html#pid6246838

🕰️ Posted on Wed Jun 24 2026 by ✍️ Orbachin (Profile)

🏷️ Tags:
📖 1371 words / 6 min read

ভোরের কুয়াশা তখনো পুরোপুরি কাটেনি, যখন রমিজের সেই মেঠো ঘর থেকে আবার যাত্রা শুরু হলো। আকাশের মুখ ভার, আর্দ্রতা আর গুমোট গরমে বাতাসের ওজন যেন বেড়ে গেছে। তাহসীন নাহার সূচনার জন্য আজকের সকালটা ছিল এক অবর্ণনীয় যন্ত্রণার। আগের রাতে বাঁশঝাড়ের পেছনে কালুর সেই বন্য উন্মাদনা এবং শেষ রাতে নিজের ঘরের মেঝেতে আজিজ মিয়ার সেই ধূর্ত ও জঘন্য লালসার শিকার হওয়ার পর তাঁর শরীর এবং মন—দুটোই এখন অসাড়। সূচনার গায়ের রং ধবধবে ফর্সা হলেও এখন সেখানে ধুলো, কাদা আর ঘামের এক নোংরা আস্তরণ পড়ে গেছে। তাঁর ৩৭ বছরের জীবনে তিনি কখনো এক বেলা গোসল না করে থাকেননি, অথচ আজ দুই দিন ধরে এই একই পোশাকে তিনি ধুলোবালি মেখে ঘুরছেন। *টা এখন আর সম্মানের প্রতীক নয়, বরং তাঁর কাছে এক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর শরীরের স্থূলতা এই দুর্গম পথে তাঁর সবচেয়ে বড় শত্রু। প্রতিটা পদক্ষেপ নিতে গিয়ে তাঁর মনে হচ্ছে কোমরের নিচের হাড়গুলো একে অপরের সাথে ঘষা খাচ্ছে। যাত্রার শুরুতে দেখা গেল এক করুণ দৃশ্য। সূচনার বাবা, কুমিল্লার একসময়ের প্রতাপশালী সম্রাট বাহাউদ্দিন বাহার এবং তাঁর মা—দুজনের অবস্থাই শোচনীয়। বাহার সাহেবের সেই দাম্ভিক হাঁটাচলা এখন অতীত; তিনি এখন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছেন। তাঁর সাদা দাড়ি আর নেড়া মাথায় ঘাম জমে চকচক করছে। সারা জীবন যিনি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ি আর মখমলের গদি ছাড়া চলেননি, আজ তাঁকে সাধারণ এক গ্রাম্য লাঠিতে ভর দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে। সূচনার মা-ও ক্লান্তিতে ভেঙে পড়েছেন। তাঁর চোখেমুখে এক অজানা আতঙ্ক আর অসহায়ত্ব। ক্ষমতার চূড়া থেকে এই খাদের কিনারে পড়ে যাওয়াটা তাঁদের কাছে মৃত্যুর চেয়েও বেশি যন্ত্রণাদায়ক। টানা ৩-৪ ঘণ্টা হাঁটার পর আজিজ মিয়া নির্দেশ দিল বিরতির। একটি বড় বটগাছের নিচে সবাই বসল নাস্তার জন্য। গ্রাম থেকে আসার সময় রমিজের স্ত্রী কিছু হাতে বানানো শুকনো রুটি আর ভাজি পলিথিনে মুড়িয়ে দিয়েছিল। বসার সাথে সাথে সূচনার মনে হলো তাঁর পিঠের শিরদাঁড়াটা ছিঁড়ে যাবে। তিনি হাঁপাতে হাঁপাতে মাটির ওপর বসে পড়লেন। “মা, একটু পানি দাও,” বাহার সাহেব ফিসফিস করে বললেন। সূচনার মা নিজের ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করে দিলেন। দামী মিনারেল ওয়াটার নয়, গ্রামের টিউবওয়েলের ঘোলাটে পানি। বাহার সাহেব সেই পানিটুকু অমৃতের মতো পান করলেন। নাস্তা শেষে আবার যাত্রা শুরু। সূচনার বাবা-মা একে অপরকে ধরে হাঁটছেন। আজিজ মিয়ার দুই পান্ডা—কালু আর মন্টু—পেছনে হাঁটছে। তাদের লোলুপ দৃষ্টি বারবার সূচনার নিতম্বের দুলুনির ওপর গিয়ে পড়ছে, যা সূচনা স্পষ্ট অনুভব করতে পারছেন। গত রাতের ঘটনার পর তাদের সাহস আরও বেড়ে গেছে। তারা এখন আর নিজেদের মধ্যে ফিসফিস করে না, বরং প্রকাশ্যেই সূচনার শরীর নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করছে। হাঁটতে হাঁটতে সূচনার শরীরে এক অস্বস্তি শুরু হলো। তাঁর তলপেটে এক তীব্র চাপ অনুভব করছেন। সকালে বাসি রুটি আর অপরিচ্ছন্ন জল খাওয়ার ফল হতে পারে, কিংবা গত রাতের সেই শারীরিক লাঞ্ছনার পর ভেতরের অস্বস্তি। তাঁর বাথরুম পেয়েছে। কিন্তু এই বন-জঙ্গলে, যেখানে চারদিকে শুধু পুরুষ আর ঝোপঝাড়, সেখানে তিনি কোথায় যাবেন? সূচনা অনেকক্ষণ চেপে রাখার চেষ্টা করলেন। কিন্তু তাঁর শরীরের স্থূলতার কারণে চাপটা দ্রুত অসহনীয় হয়ে উঠল। তিনি বুঝতে পারলেন, আর দেরি করলে জনসমক্ষেই এক লজ্জাজনক পরিস্থিতি তৈরি হবে। তিনি ধীর পায়ে সামনে হাঁটতে থাকা আজিজ মিয়ার কাছে গেলেন। আগের রাতের সেই জঘন্য ঘটনার পর আজিজ মিয়ার দিকে তাকাতেও সূচনার ঘেন্না লাগছিল। কিন্তু এই মুহূর্তে তাঁর কোনো উপায় নেই। “চাচা... একটু দাঁড়ান,” সূচনা নিচু স্বরে বললেন। আজিজ মিয়া থামল। তাঁর মুখে সেই চিরাচরিত ধূর্ত হাসি। “কী হইছে বেটি? টায়ার্ড হইয়া গেলা নাকি?” সূচনা মাথা নিচু করে বললেন, “না... আমার একটু বাথরুম যাওয়া দরকার। আর পারছি না।” আজিজ মিয়া চারপাশটা একবার দেখে নিল। বাহার দম্পতি তখন কয়েক হাত পেছনে হাঁপাতে হাঁপাতে জিরিয়ে নিচ্ছেন। কালু আর মন্টু দূরে দাঁড়িয়ে বিড়ি ফুঁকছে। “হুম, বুঝছি। আগে তো কওয়া উচিত আছিল,” আজিজ মিয়া গলার স্বর স্বাভাবিক রেখে বলল। “সামনে কয়েক গজ গেলেই একটা মরা খালের মতো জায়গা আছে। ওদিকে ঝোপঝাড় বেশি। তুমি ওখানে কাজ সাইরা নিতে পারবা। আমরা এইখানে একটু জিরানি নিই।” সবাইকে একটু দূরে বসিয়ে রেখে আজিজ মিয়া ইশারা করল খালের দিকে। সূচনা ধীর পায়ে এগোতে লাগলেন। জায়গাটা বেশ নির্জন। মরা খালের পাড়ে বড় বড় ঘাস আর ঝোপ। পানির স্রোত নেই বললেই চলে, তবে পরিষ্কার করার মতো কিছু পানি আছে। সূচনার মনে পড়ল তাঁর বিলাসবহুল বাথরুমের কমোড আর হ্যান্ড শাওয়ারের কথা। আর আজ তাঁকে এই বুনো ঘাসের মাঝে, খোলা আকাশের নিচে নিজেকে উন্মুক্ত করতে হবে। তিনি একটি বড় ঝোপের আড়ালে গেলেন। চারপাশটা একবার দেখে নিলেন। কেউ নেই। তিনি দ্রুত তাঁর *টা সরালেন এবং সালোয়ারটা নিচে নামালেন। এই খোলা জায়গায় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়াটা তাঁর কাছে চরম অপমানজনক মনে হলো। কিন্তু শরীরের অস্বস্তি তাঁকে সবকিছু ভুলিয়ে দিচ্ছিল। মেদবহুল শরীর নিয়ে ঝোপের আড়ালে উবু হয়ে বসা সূচনার জন্য ছিল এক কঠিন কসরত। তাঁর হাঁটুতে তীব্র চাপ পড়ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি তাঁর প্রাকৃতিক কার্য সম্পন্ন করলেন। ঝোপের পাশ দিয়ে বয়ে চলা খালের পানিতে তিনি নিজেকে পরিষ্কার করে নেওয়ার চেষ্টা করলেন। ঠিক যখন সূচনা নিজেকে পরিষ্কার করার জন্য ঝুঁকছেন, তখনই তাঁর ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় সজাগ হয়ে উঠল। তাঁর মনে হলো, এই নির্জনতায় তিনি একা নন। কেউ একজন খুব কাছ থেকে তাঁকে দেখছে। তিনি মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেলেন। তাঁর হৃৎপিণ্ড  জোরে ধকধক করতে শুরু করল। তিনি চোখের কোণ দিয়ে চারপাশের ঘন ঝোপগুলো লক্ষ্য করতে লাগলেন।হঠাৎ তাঁর নজরে এল—কয়েক হাত দূরে একটি ঘন ঝোপের ডালপালা সামান্য নড়ছে। আর সেই ডালপালার ফাঁক দিয়ে এক জোড়া চোখ স্থির হয়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে। সূচনা বুঝতে পারলেন, এটি কালু অথবা মন্টু। সম্ভবত কালুই। সেই রাতের পর থেকে লোকটা ছায়ার মতো তাঁকে অনুসরণ করছে। সূচনার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল চিৎকার করার। কিন্তু তিনি থেমে গেলেন। চিৎকার করলে তাঁর বাবা-মা দৌড়ে আসবেন। তাঁরা এসে যদি দেখেন তাঁদের মেয়ে এই অবস্থায় এবং পরপুরুষ তাঁকে এভাবে দেখছে, তবে তাঁরা লজ্জায় আর অপমানে সেখানেই মারা যাবেন। তাছাড়া আজিজ মিয়ার এই লোকেদের বিরুদ্ধে কথা বলে লাভ নেই। এরা এখন সূচনার শরীরের মালিক হয়ে বসেছে। সূচনার মনে এক অদ্ভুত মিশ্র অনুভূতি তৈরি হলো। একদিকে তীব্র ঘৃণা ও অপমান, অন্যদিকে এক ধরণের পৈশাচিক অসাড়তা। তিনি বুঝতে পারলেন, এই পলায়ন যাত্রায় তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা সম্ভ্রম বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। তিনি যখন তাঁর শরীরের মেদবহুল ভাঁজগুলো পরিষ্কার করছিলেন, তখন তিনি অনুভব করতে পারছিলেন ওই গোপন চোখের দৃষ্টি কীভাবে তাঁর নগ্ন ত্বকের ওপর বিচরণ করছে। কালু বা ওই গাইডটি নির্লজ্জভাবে তাকিয়ে ছিল। সে দেখছিল কুমিল্লার দাপুটে মেয়রের এই চরম অসহায় এবং প্রাকৃতিক রূপ। সূচনা তাঁর হাত দিয়ে নিজের শরীর আড়াল করার চেষ্টা করলেন না, কারণ তিনি জানতেন তাতে আরও বেশি কৌতূহল বাড়বে। তিনি যান্ত্রিকভাবে তাঁর কাজ শেষ করলেন। পরিষ্কার হওয়ার পর সূচনা তাঁর সালোয়ার পরলেন এবং * দিয়ে নিজেকে আবার কালো কাপড়ে ঢেকে ফেললেন। তাঁর মনে হলো, এই কালো কাপড়টা এখন আর আব্রু নয়, বরং এক বিরাট মিথ্যার আবরণ। ভেতরের ক্ষত আর অপমানগুলো কেউ দেখছে না, কিন্তু তিনি তো জানেন তাঁর কী অবশিষ্ট আছে। ঝোপের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসার সময় তিনি আবার সেই ঝোপটার দিকে তাকালেন। এবার আর কিছু নড়ছে না। কালু হয়তো আগেই সরে গেছে অথবা সে এখনো সেখানেই ঘাপটি মেরে আছে।সূচনা ফিরে এলেন যেখানে সবাই বসে ছিল। “হইছে বেটি?” আজিজ মিয়া জিজ্ঞেস করল। সূচনা শুধু মাথা নাড়লেন। কোনো কথা বললেন না। কালু তখন মন্টুর সাথে হাসাহাসি করছে। সূচনার দিকে তাকিয়ে সে এক অদ্ভুত ভঙ্গিতে চোখ টিপল। সূচনা সেই দৃষ্টি এড়িয়ে গেলেন। “উঠো সবাই! আর বেশি বাকি নাই। বর্ডার লাইন ঘাইষা আমাদের আগাইতে হইবো। সামনে নদী আছে, ওইটা পার হইতে পারলে ইন্ডিয়ার সীমানা,” আজিজ মিয়া হাঁক দিল। বাহার সাহেব লাঠি ধরে উঠে দাঁড়ালেন। সূচনার মা-ও কষ্ট করে উঠলেন। সূচনা আবার সেই দীর্ঘ মিছিলের পেছনে হাঁটতে শুরু করলেন। পেছন থেকে কালুর ভারী নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে। সূচনা জানেন, আজকের রাতটা হয়তো আরও ভয়ংকর হবে। কিন্তু তিনি এখন এক পাথরের মূর্তির মতো। শরীর চলছে যান্ত্রিকভাবে, আর মনটা পড়ে আছে কোনো এক মৃত উপত্যকায়। ধুলো উড়িয়ে এই পলাতক দলটি আবার বনের গভীরে মিলিয়ে গেল। সামনে ভারতের কাঁটাতার, আর পেছনে ফেলে আসা এক রাজকীয় জীবনের দীর্ঘশ্বাস। বুড়িচং সীমান্তের শেষ গ্রামটি পার হওয়ার পর শুরু হয়েছিল নো-ম্যানস ল্যান্ডের দিকে যাত্রা। সূর্য তখন মধ্যগগনে। ভ্যাপসা গরমে বাতাস ভারী হয়ে আছে। তাহসীন নাহার সূচনার শরীর দিয়ে দরদর করে ঘাম ঝরছে। গত কয়েক দিনের ধকল, অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়ার প্রভাব এবং মানসিক চাপে তার ফর্সা মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। তার বিশাল, মেদবহুল শরীরটা যেন আর চলছে না। প্রতিটা কদমে মনে হচ্ছে পায়ের মাংসপেশী ছিঁড়ে যাবে। বাবা বাহার সাহেব লাঠিতে ভর দিয়ে কোনোমতে শরীরটা টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। সূচনার মা পাথরের মতো নির্বাক, শুধু যান্ত্রিকভাবে হেঁটে চলেছেন। আজিজ মিয়া আগে আগে হাঁটছে। তার সাথে স্থানীয় গাইডরা ইশারা দিয়ে পথ দেখাচ্ছে। “সাবধানে বড় সাব। সামনেই জিরো লাইন। ওই যে পিলারের মাথা দেখা যায়,” আজিজ মিয়া ফিসফিস করে বলল। সামনে একটি ছোট টিলা। সেটা পার হলেই ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমানা। বুকের ভেতরটা ধকধক করছে সবার। পেছনে ফেলে আসা দেশ এখন তাদের কাছে মৃত্যুফাঁদ, আর সামনের ওই কাঁটাতারবিহীন সীমান্তই এখন বাঁচার একমাত্র আশা। কিন্তু সীমান্তে পৌঁছানোর আগেই একদল খাকি উর্দি পরা জওয়ান ঝোপের আড়াল থেকে বেরিয়ে এল। তাদের হাতে অটোমেটিক রাইফেল। বিএলএফ (Border Security Force)। “হল্ট! রুকো!”