গ্রাম্য জীবনের সুখ দুঃখে মা ও ছেলে। - অধ্যায় ৭
আমি- কি হয়েছে মা।
মা- না না কিছু না এমনি তোর শুনতে হবেনা।
আমি- কেন মা এমন কি হল যে আমাকে বলতে পারবেনা, আমাকে বল এমন কি হল বাবা কি বাজে কথা কিছু বলেছে।
মা- না থাক একদিন বলব সময় আসুক দেখি ও আর কি কি বলতে পারে তারপর একবারে তোকে বলব ৫ টা বাজে যাবি নাকি আবার জমিতে দুই ঘন্টা কাজ করা যাবে।
আমি- না না আজকে আর যাবনা কালকে যাবো সকাল বিকাল দুই বেলা তবে শেষ করতে পারবো। আজকে অনেক কষ্ট হয়ে গেছে আগে ফিরে এসে আবার গেলে ভালো হত কালকে দুইবেলা যাবো। তার থেকে সার নিয়ে আসি।
মা- তবে তাই যা আর ঐ লোক্টাকে টাকা দিয়ে আসিস না হলে আমাদের রক্ষা নেই।
আমি- আচ্ছা বলে বাজারে গিয়ে আগে বাবাকে খুঁজে টাকা দিলাম এবং সার কিনে বাড়ি ফরলাম সন্ধ্যের পরে। মা সব করে রেখেছে। মাকে বললাম খুব সকালে আমি যাবো তুমি পরে খাবার নিয়ে যাবে তারপর এগারোটার মধ্যে বাড়ি আসবো। আবার বিকেলে যাবো।
মা- ঠিক আছে তাই করিস আয় খেতে দেই সকালে অনেক পরিশ্রম ক্রএছিস এবার ঘুমা।
আমি- হ্যা মা বলে খেয়ে সত্যি আমি বিছানায় ঘুমাতে গেলাম। বিছানায় গেলেই মাকে মনে পরে, যা দেখছি কি হবে আমাদের কথা বাত্রা তো ভালই হচ্ছে জানিনা, মাকে পাবোকিনা, কিন্তু আমার যে চাই, আমার মা শুধু আমার তাকে যে আমার করতেই হবে, এইসব ভেবে ভেবে আবার মাল ফেললাম এবং ঘুমালাম।
খুব সকালে উঠে আমি জমিতে গেলাম। দুটো নিড়ানি নিয়ে এবং আমি মা যেটা দিয়ে কালকে কাজ করতে পারছিলনা সেটা দিয়ে অনেক কাজ করে ফেললাম। প্রায় একটা জমি শেষ করে ফেলেছি। মা ১০ স টা নাগাদ খাবার নিয়ে এল আর গাছ তলায় গিয়ে বসলাম মায়ের হাতেই খেলাম। এরপর বাকি কাজ আমি আর মা করে বাড়ি ফিরলাম। দুপুরে বাবা এলেও কোন কথা হলনা। মা বাবা দুজনেই মুখ ভার। সারে তিনটে বাজতেই আমি রেডি হলাম। মনে হল বাড়িতে কিছু একটা হয়েছে। মাকে বললাম মা আমি জমিতে যাচ্ছি। তোমার যেতে হবেনা বাড়িতেই থাকো।
মা- বলল আমি যাবো তোর সাথে কথা আছে আমার।
আমি- চলো তাহলে বলে দুজনে জমিতে গেলাম গিয়ে কাজে লাগলাম। বাকি জমিটা সন্ধ্যে মধ্যে সেশ করব মা। এই বলে কাজে লেগে পড়লাম দেখতে দেখতে সন্ধ্যে হয়ে গেল। একটু কাজ বাকি আছে। সূর্য ডুবতে ডুবতে কাজ শেষ করে ফেললাম। আমি ধামায় করে সব জঙ্গল একটা আলের উপর এনে ডিবি দিলাম। একদম একটা বিছানার মতন হয়ে গেল। এরপর আমাদের দুই জমির মাজখানে বসলাম একটু তখনো, আলো আছে তবে সূর্য ডুবে গেছে। আমি মাকে বললাম কি কথা আছে বলছিলে এখন বলো। সন্ধ্যে হয়ে আসছে ভালই হাওয়া দিচ্ছে এখানে বসেই শুনি তোমার কথা।
মা- তোকে কি বলব, সেদিন তোর বাবা আমাকে যা বলেছে শুধু তোর মুখ চেয়ে আমি বেঁচে আছি না হলে জেদিকে দুচোখ যেত চলে যেতাম।
আমি- কেন মা কি হয়েছে। কি বলেছে বাবা তোমাকে এমন কি হল, বেশ কিছুদিন ধরেই শুনছি তোমার এই কোলাহল এর কারন কি।
মা- তোকে কি বলব যেদিন থেকে তুই জমির কাজের দিকে মন দিয়েছিস তারপর থেকেই আমাকে সব সময় অপমান করা ছাড়া ওর কোন কাজ নেই। তুই আমার সাথে সব সময় থাকিস এটায় ওর জলন হয়ে। সেদিন টাকা চেয়েছে দিস নি ভাবছে আমি তোকে বারন করেছি তাই নিয়েও আজে বাজে কথা বলেছে। যে সব কথা বলে সেটা আমি মা হয়ে তোকে বলতে পারিনা।
আমি- কেন কারন কি কিছু কি তুমি বুঝতে পারছ। টাকা দেই নাই সেটা তো দিয়ে দিয়েছি তারপরও তোমাকে আজে বাজে কথা বলে কেন মা এমন কি করলাম আমরা।
মা- কি বলব তোকে ঐ শাড়ি ছায়া ব্লাউজ আর ব্রা দেখেছে তারপর আমাকে অনেক আজে বাজে নোংরা কথা বলেছে যা তোকে বলতে পারিনা। দেখলিনা তুই বাড়ি ঢুকতেই থেমে গেছিল। এই অপমান আমি সহ্য করতে পারছিনা বাবা। কিছু না করে এমন অপবাদ। তোর বাবা আমাকে সন্দেহ করেছে কে আমাকে ওইসব দিয়েছে। আমি নাকি পর পুরুষের সাথে মেলামেশা করি এই সব বলেছে তারপর আরো যা বলেছে কি বলব তোকে।
আমি- কেন তুমি বলি আমি কিনে দিয়েছি। আর কি কি বলেছে।
মা- সে বলতে তো আরো রেগে যায় আর যা বলেছে কি বলব তোকে। সব চাইতে নোংরা কথা আমাকে বলেছে। আমি কি করব এই লোকের সাথে থাকবো একদম থাকা জায়নারে বাবা। তুই আমাকে বাচা। কিছু করবেনা আবার অপবাদ দেবে। এমন অপবাদ যা কোনদিন আমি ভাবিনি এইসব কথা তোর বাবা বলতে পারে ওর বিচার করা উচিৎ এমন কেন বলল। কিন্তু কে করবে ওর বিচার তেমন কেউ নেই, ওকে উচিৎ শিক্ষা দেওয়া দরকার।
আমি- মা সে তো বুঝলাম কিন্তু কি এমন বলেছে যে তোমার মনে এত কষ্ট আমাকে বলবে সেগুলো। তা হলেই না আমি প্রতিবাদ করতে পারি। দেখ তেমন যদি হয় আমি তোমাকে নিয়ে এখনা থেকে চলে যাবো থাকবে উনি ওনার মতন। কিন্তু আমাকে তো তুমি বলবে। কার সম্নন্ধে বলেছে।
মা- প্রথমে অন্য কারো কথা বললেও পরে সব তোকে নিয়েই বলেছে।
আমি- আচ্ছা দ্যাখ কেউ তো নেই আমাকে তুমি বল শুনি বাবা কি এমন তোমাকে বলেছে। এই সময় এই মাঠে আমি আর তুমি ছাড়া কেউ নেই। তাই তুমি মন খুলে আমাকে বলতে পারো। কি এমন কথা যে আমি বাড়ি ফিরতেই বাবা চুপ করে গেল। যা তোমাকে বলেছে আমাকে দেখে থেমে গেল এর কারন কি।
মা- বুঝিস না তুই এখন বড় হয়েছিস তাই ভয় পায়, আমাকে বলেছে আবার এইসব নিয়ে যেন ওর সাথে আলোচনা না করি। ওর সাথে মানে তোর সাথে। আমাকে অপবাদ দেবে আবার ভয় পায় তোকে।
আমি- মা আসলে তোমার কথা আমি বুঝতে পারছিনা অন্ধকার হয়ে গেল এভাবে কতক্ষণ কি আলোচনা হবে, তুমি আমাকে বল প্রয়োজনে আমি বাবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। তাই নিলে তো তুমি খুশী হবে। এইজন্যি কি কালকে তুমি জমিতে আসতে চেয়েছিলে।
মা- হ্যা ঠিক এই কারনেই তোকে বলব বলে বাড়িতে তো বলা যায়না আবার কে শুনে ফেলবে তারজন্য ফাঁকা জায়গায় বসে বলব বলে ঠিক করেছি।
আমি- তবে এখন বল ফাঁকা মাঠ আমি আর তুমি ছাড়া কেউ নেই চেচিয়েও বললেও কেউ শুনবেনা। কি এমন বাবা বলেছে যে তোমার এত রাগ হচ্ছে।
মা- কি করে বলব তুই আমার ছেলে তোকে নিয়ে এমন কথা কোন বাবা বলতে পারে আমি কল্পনাও করিনি।
আমি- আরে তুমি না বললে আমি তো কিছুই বুঝতে পারছিনা এমন কি বলেছে বাবা। কোন গপন কথা আমি কোন অন্যায় করেছি বাঃ তুমি কোন অন্যায় করেছ সেসব কিছু।
মা- হ্যা আমি বাঃ তুই কোন অন্যায় না করেই বিশাল বড় অপরাধী।