মা ও ছেলের গল্প - অধ্যায় ১১
( পর্ব - 17 )p {
line-height: 1.8;
} কয়েক মিনিট পর রাবেয়া বেগম যখন শাড়ি, ছায়া আর হাতা কাটা ব্লাউজটি পরে আসিফের রুমে ঢুকলেন, তখন তাঁর পুরো মুখ লজ্জায় লাল হয়ে উঠেছিল। ৪৫ বছর বয়সে এসে এমন আধুনিক সাজে ছেলের সামনে দাঁড়াতে তাঁর ভীষণ জড়তা লাগছিল। তিনি শাড়ির আঁচলটা দিয়ে হাত দুটো আড়াল করার চেষ্টা করছিলেন এবং মাটির দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন।
তাঁর এই লজ্জা মাখানো রূপ দেখে আসিফ বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াল। এতদিনের গম্ভীর আর রাগী মায়ের মুখে এমন অবোধ শিশুর মতো লজ্জা দেখে তার মনটা এক অদ্ভুত ভালোলাগায় ভরে গেল।
p {
line-height: 1.8;
}আসিফ মায়ের কাছে গিয়ে তাঁর হাত দুটি আলতো করে ধরল। সে নরম গলায় বলল, "মা, তুমি এত লজ্জা পাচ্ছ কেন? নিজের ছেলের সামনে আসতেও কি লজ্জা পেতে হয়?"
রাবেয়া বেগম মুখ না তুলেই ফিসফিস করে বললেন, "কেমন যেন লাগছে রে আসিফ! এই বয়সে হাতা কাটা ব্লাউজ পরে কেমন দেখাচ্ছে কে জানে! তুই কি আমার সাথে ফাজলামো করছিস?"
আসিফ আলতো করে মায়ের চিবুক ধরে তাঁর মুখটা ওপরে তুলল। মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে সে খুব গভীর ও শান্ত গলায় বলল, "মা, সত্যি বলছি, তোমাকে একদম আকাশের পরীর মতো সুন্দর লাগছে। মায়ের কোনো বয়স হয় না মা। আর এই হাতা কাটা ব্লাউজে তোমাকে এতটাই আধুনিক আর মায়াবী লাগছে যে, কেউ বলতেই পারবে না তোমার ২৭ বছরের একটা ধেড়ে ছেলে আছে! মনে হচ্ছে তুমি আমার বড় বোন।"
ছেলের এই সুন্দর আর রসাত্মক প্রশংসা শুনে রাবেয়া বেগমের মুখের সব লজ্জা আর জড়তা এক নিমেষে কেটে গেল। তিনি হেসে উঠলেন এবং আসিফের পিঠে আলতো করে একটা চাপড় মেরে বললেন, "পাকা ছেলে কোথাকার! মায়ের সাথে ইয়ার্কি করা হচ্ছে?"
আসিফ মায়ের এই হাসিমুখ দেখে তৃপ্তির নিঃশ্বাস ফেলল। সে তার রাগী মায়ের ভেতরের নারীত্ব আর আত্মবিশ্বাসকে এভাবে ভালোবেসে ফিরিয়ে দিল।
p {
line-height: 1.8;
} মায়ের এই সুন্দর ও প্রাণবন্ত রূপ দেখার পর আসিফ এবার কী করবে?