মা ও ছেলের গল্প - অধ্যায় ১৮
( পর্ব - 24 ) p {
} নাস্তার টেবিলে বসে গরম গরম রুটি আর আলুর দম খেতে খেতে আসিফ হঠাৎ মায়ের দিকে তাকিয়ে দুষ্টুমি ভরা চোখে হাসল। সে রাবেয়া বেগমকে আলতো করে খোঁচা মেরে বলল, "আচ্ছা মা, ইদানীং কিন্তু তোমার ওজনটা একটু বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে। এই যে সকাল সকাল এতগুলো রুটি খাচ্ছ, তোমাকে তো দিন দিন একদম মোটকির মতো লাগছে!" "আজ থেকে আমি তোমাকে এই মোটকি নামেই ডাকব। নামটা কিন্তু বেশ মিষ্টি আর তোমাকে খুব ভালো মানিয়েছে!"
p {
} ছেলের মুখে এই নতুন নামের ঘোষণা শুনে রাবেয়া বেগম হাতের রুটি প্লেটে রেখে চোখ দুটো বড় বড় করে তাকালেন। ৪৫ বছর বয়সী রাগী মায়ের ভেতরের সেই চেনা তেজ মুহূর্তেই ফিরে এলো। তিনি টেবিল চাপড়ে রাগী গলায় বললেন, "কী বললি তুই? এত বড় সাহস তোর! মায়ের একটা সুন্দর নাম আছে, আর তুই আমাকে এই নামে ডাকবি? তোর এই ফাজলামো আমি একদম সহ্য করব না!"
p {
} আসিফ মায়ের এই নকল রাগ দেখে মোটেও ভয় পেল না। সে শান্ত মুখে মায়ের প্লেটে আরও একটা গরম রুটি তুলে দিয়ে বলল, "আরে রাগ করছ কেন মা? যারা একটু গোলগাল আর মিষ্টি হয়, তাদের ভালোবেসেই এই নামে ডাকা হয়। তুমি তো আমার সবচেয়ে মিষ্টি মা, তাই এই নাম।"
p {
} কিন্তু রাবেয়া বেগম মুখ শক্ত করে বললেন, "তোর ওই ভালোবেসে ডাকা আমি শুনেছি! আজ থেকে যদি আর একবার এই নাম মুখ দিয়ে বের করেছিস, তবে সকালের ওই হাতপাখার মার মনে আছে তো? এবার কিন্তু তার চেয়েও কড়া শাস্তি হবে!"
p {
} আসিফ দুই হাত তুলে হাসিমুখে বলল, "আচ্ছা বাবা আচ্ছা, আর বলব না। তুমি মোটকি নও, তুমি আমার এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মা। এবার রাগ কমিয়ে খেয়ে নাও তো!"
p {
} ছেলের এই তাত্ক্ষণিক তোষামোদ আর মিষ্টি কথার সামনে রাবেয়া বেগমের রাগ বেশিক্ষণ টিকল না। তিনি মুখটা ঘুরিয়ে হালকা হাসলেন এবং আবার খেতে শুরু করলেন। নাস্তার টেবিল জুড়ে তখন মা-ছেলের এই মিষ্টি ঝগড়া আর হাসির আওয়াজ প্রতিধ্বনিত হতে লাগল।
p {
} লাইক ও রেপুটেশন না দিলে গল্প এগোবে না।