মা ও ছেলের গল্প - অধ্যায় ২৪
( পর্ব - 30 )
আসিফ বাজার থেকে কেনাকাটা শেষ করে ছায়া ও নেটের ব্রায়ের প্যাকেটটি হাতে নিয়ে ধীরপায়ে বাড়ির ভেতর প্রবেশ করল। ড্রইংরুমে তখন দুপুরের শান্ত পরিবেশ। রাবেয়া বেগম রান্নাঘরের কাজ শেষ করে ছেলের অপেক্ষায় সোফায় বসেছিলেন। আসিফকে ঘরে ঢুকতে দেখে তাঁর মুখজুড়ে এক অনাবিল স্বস্তি আর মাতৃত্বের চেনা মমতা ফুটে উঠল।
তিনি অত্যন্ত নরম ও মায়াবী গলায় বললেন,
রাবেয়া বেগম : "এলি বাবা? রোদ তো বড্ড কড়া হয়েছে বাইরে। হাত-মুখ ধুয়ে ফ্যানের নিচে বোস, আমি তোকে দুপুরের খাবার বেড়ে দিচ্ছি।"
আসিফ হাতের প্যাকেটটি টেবিলের ওপর রাখল। তার মনের ভেতর তখন এক অদ্ভুত নীরবতা আর অস্বস্তি কাজ করছিল। p {
আসিফ মায়ের কথার পিঠে মাথা নেড়ে টেবিল থেকে কাপড়ের প্যাকেটটি হাতে তুলে নিল। সে কিছুটা দ্বিধা ও সংকোচ মেশানো গলায় বলল,
আসিফ : "পরে খাবো মা। আগে এই প্যাকেটটি ধরো। তোমার জন্য গরমে পরার জন্য কিছু পোশাক এনেছি। তবে আমার মনে হয় তোমার পছন্দ হবে না।"
ছেলের মুখে এমন কথা শুনে রাবেয়া বেগম একটু অবাক হলেন, কিন্তু একই সাথে তাঁর মনটা স্নেহে ভরে উঠল। এত রোদের মধ্যে কষ্ট করে ছেলে তাঁর জন্য গরমের কাপড় কিনে এনেছে, এতেই তিনি খুশি। তিনি এক চিলতে চওড়া হাসি ফুটিয়ে বললেন, p {
রাবেয়া বেগম : "পাগল ছেলে কোথাকার! তুই নিজের পছন্দে এনেছিস, আর সেটা আমার পছন্দ হবে না—তা কখনো হয়? দেখি, আমার সোনা বাবা আমার জন্য কী এনেছে!"
কথাটি বলতে বলতে রাবেয়া বেগম পরম আগ্রহ নিয়ে আসিফের হাত থেকে কাপড়ের প্যাকেটটি নিজের কাছে টেনে নিলেন এবং তার ভেতরের জিনিসগুলো দেখার জন্য সুতোটি খুলতে শুরু করলেন। p {
আসিফ মায়ের হাত থেকে প্যাকেটের সুতোটা খোলার আগ্রহ দেখে হুট করেই কেমন যেন এক তীব্র অস্বস্তি আর ভয় অনুভব করল। বাজারে দোকানদারের সামনে নির্লজ্জের মতো কুরুচিপূর্ণ কথাগুলো বলে ফেললেও, মায়ের সেই চেনা শান্ত আর মমতাময়ী মুখের সামনে দাঁড়িয়ে তার ভেতরের বিকারগ্রস্ত চিন্তাগুলো মুহূর্তের মধ্যে এক গভীর অপরাধবোধ ও আতঙ্কে রূপ নিল।
সে হুট করে মায়ের হাত থেকে প্যাকেটটি কেড়ে নেওয়ার মতো করে চেপে ধরল। তার মুখটা ভয়ে ও লজ্জায় ফ্যাকাশে হয়ে গেল। সে অত্যন্ত আমতা-আমতা করে, কাঁপানো গলায় বলল, p {
আসিফ : "না মা! খুলো না, থাক... খোলার পর তুমি আবার আমাকে মারবে!"
ছেলের মুখের এমন আকস্মিক পরিবর্তন, তীব্র ভয় আর অদ্ভুত কথা শুনে রাবেয়া বেগম চরম বিস্ময়ে হাতটা থামিয়ে দিলেন। তিনি আসিফের চোখের দিকে তাকালেন। সেখানে কোনো দুষ্টুমি বা খুনসুটি নেই, আছে কেবল এক ভয়ানক অপরাধবোধের ছায়া। রাবেয়া বেগমের মায়ের মন এক সেকেন্ডে টের পেয়ে গেল যে, আসিফ বাজার থেকে সাধারণ কোনো পোশাক আনেনি, এমন কিছু এনেছে যা সে নিজেই মায়ের সামনে বের করতে ভয় পাচ্ছে। p {
তিনি অত্যন্ত গম্ভীর এবং তীক্ষ্ণ চোখে আসিফের দিকে তাকিয়ে শক্ত গলায় বললেন,
রাবেয়া বেগম : "তোর এত ভয় কিসের আসিফ? তুই বাজার থেকে এমন কী এনেছিস যার জন্য তোকে আমার মারতে হবে? প্যাকেটটা ছাড়, আমাকে দেখতে দে তুই তোর মায়ের জন্য কী পছন্দ করে এনেছিস!"
আসিফ মায়ের তীব্র ও গম্ভীর দৃষ্টি দেখে আরও বেশি ঘাবড়ে গেল। সে কাপড়ের প্যাকেটটি দুই হাতে শক্ত করে বুকের সাথে চেপে ধরে বাচ্চাদের মতো অসহায় গলায় বলল,
আসিফ : "মা, সত্যি বলছি, আমি শুধু এই তীব্র গরমে তোমার আরাম আর কষ্টের চিন্তা করেই এগুলো এনেছিলাম। কিন্তু প্যাকেট খোলার পর তুমি আমার ওপর অনেক রাগ করবে। তুমি আগে আমাকে কথা দাও মা, প্যাকেট খোলার পর তুমি আমাকে একদম মারবে না! বলো, মারবে না তো?
ছেলের মুখে এমন অদ্ভুত অনুনয় আর ভয়ার্ত আকুতি শুনে রাবেয়া বেগমের মনের ভেতরের সন্দেহ আরও গভীর হলো। তবে সন্তানের এই অসহায় মুখ দেখে তাঁর মাতৃত্বের মন কিছুটা নরমও হলো। তিনি আসিফের মাথায় হাত রেখে শান্ত কিন্তু দৃঢ় গলায় বললেন, p {
রাবেয়া বেগম : "আচ্ছা বাবা, তোকে আমি মারব না, রাগও করব না। তুই তো আমারই সন্তান, তোর ওপর কি মা সারাজীবন রাগ করে থাকতে পারে? এবার ভয় না পেয়ে প্যাকেটটি আমার হাতে দে, দেখি কী এনেছিস।"
মায়ের এই আশ্বাসের পর আসিফ অত্যন্ত কাঁপাকাঁপা হাতে প্যাকেটটি রাবেয়া বেগমের দিকে বাড়িয়ে দিল। p {
রাবেয়া বেগম যখন পরম আগ্রহ নিয়ে কাপড়ের প্যাকেটটি খুললেন, তখন ভেতরের সেই অত্যন্ত পাতলা ছায়া আর নেটের অন্তর্বাসটি দেখে তাঁর মুখের চেনা হাসি মুহূর্তের মধ্যে মিলিয়ে গেল। নিজের ২৭ বছরের ছেলের কাছ থেকে এমন চরম কুরুচিপূর্ণ এবং অশালীন জিনিস দেখে তাঁর পুরো শরীর লজ্জায় ও অপমানে থরথর করে কাঁপতে লাগল।
লজ্জার সেই তীব্র লাল আভা তাঁর ফর্সা গাল, কান ও গলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ল।
আসিফ মায়ের তীব্র লজ্জা আর অস্বস্তি দেখে নিজের মাথাটা একদম নিচু করে ফেলল। সে অপরাধীর মতো অত্যন্ত নিচু ও ভাঙা গলায় বলল,
আসিফ : "থাক মা... এগুলো পরতে হবে না। দাও, আমি ফেরত দিয়ে আসি।"
আসিফ যখন প্যাকেটটি হাতে নিয়ে মাথা নিচু করে দরজার দিকে রওনা হলো, তখন রাবেয়া বেগম ঘরের ভেতরের তপ্ত ফ্যানের বাতাসের দিকে তাকিয়ে এক গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। ছেলের এমন কুৎসিত আর কুরুচিপূর্ণ আচরণে তাঁর মাতৃত্বের বুকে যে তীব্র আঘাত লেগেছিল, তা সত্য; কিন্তু সন্তান যখন নিজের ভুল বুঝতে পেরে অপরাধীর মতো মুখ নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল, তখন মায়ের ভেতরের রাগটা নিমেষেই এক অদ্ভুত মায়ায় রূপ নিল। p {
তিনি দরজার দিকে এগিয়ে যাওয়া আসিফের ক্লান্ত ও ঘর্মাক্ত পিঠটার দিকে চাইলেন। বাইরে তখন দুপুরের সূর্য মাথার ওপর, আগুন-রোদ চারদিকে। রাবেয়া বেগম মনে মনে বললেন, p {
রাবেয়া বেগম : "ছেলেটা এই তীব্র দুপুরের রোদে পুড়তে পুড়তে বাজার থেকে মাত্রই ঘরে ফিরল। এখন আবার এই নোংরা কাপড়গুলো ফেরত দেওয়ার জন্য এই কড়া রোদের মধ্যে কষ্ট করে হেঁটে হেঁটে বাজারে যাবে? মা হয়ে সন্তানের এই কষ্ট আমি কীভাবে সহ্য করি!"
মায়ের মন তো, সন্তানের হাজারটা অন্যায় আর বড় বড় অপরাধও তীব্র স্নেহের কাছে এক মুহূর্তে ফিকে হয়ে যায়।
তারপর কি হলো জানতে হলে লাইক ও রেপুটেশন দিন।