মা ও ছেলের গল্প - অধ্যায় ৫
[ পর্ব - 8 ] #########################################দুপুরের তপ্ত ভাত আর ধোঁয়া ওঠা সর্ষে ইলিশের প্রথম লোকমাটা মুখে দিয়েই আসিফ তৃপ্তির একটা শব্দ করল। মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল, "মা, তোমার হাতের রান্নার কোনো তুলনা হয় না। সর্ষে ইলিশটা জাস্ট অমৃত হয়েছে!"ছেলের মুখে প্রশংসা শুনে রাবেয়া বেগমের মুখটা খুশিতে ভরে উঠল, যদিও মুখে বললেন, "হয়েছে, আর তেল দিতে হবে না। খেয়ে নে।"আসিফ মাংসের বাটিটা মায়ের দিকে এগিয়ে দিতে দিতে খুব স্বাভাবিক গলায় বলল, "আচ্ছা মা, দুপুরের পর তো বেশ সুন্দর একটা হাওয়া দেয়। আজকের বিকেলটা ঘরে বসে নষ্ট না করে, চলো দুজনে মিলে একটু লেকপাড়ের পার্কটা থেকে ঘুরে আসি?"পার্কে ঘুরতে যাওয়ার কথা শুনে রাবেয়া বেগম একটু অবাক হলেন। তিনি চামচটা নামিয়ে রেখে বললেন, "এই বয়সে আমি যাব পার্কে ঘুরতে? লোকে দেখলে কী বলবে! তাছাড়া আমার কত কাজ পড়ে আছে, ঘর গোছানো, কাপড়ের যত্ন করা..." #########################################আসিফ মায়ের হাতটা ধরে শান্ত গলায় বলল, "সব কাজ আমি রাতে করে দেব মা। আর লোকের কথায় কী আসে যায়? তুমি তো সবসময় ঘরের চার দেয়ালে বন্দি থাকো। আজকে আবহাওয়াটাও খুব চমৎকার, বৃষ্টি ভেজা বাতাস দিচ্ছে। চলো না, দুজনে একটু হেঁটে আসি, তোমার মনটাও ভালো লাগবে।"মায়ের চিরচেনা আপত্তির দেয়ালটা আসিফের এই শান্ত আর আদুরে অনুরোধের সামনে টিকতে পারল না। রাবেয়া বেগম একটু হেসে বললেন, "আচ্ছা বাবা আচ্ছা, তোর সাথে আর পারা যায় না। তুই যখন এত করে বলছিস, তাহলে যাব। কিন্তু বেশিক্ষণ থাকা যাবে না, মাগরিবের আজানের আগেই ফিরতে হবে।"আসিফ হেসে বলল, "যথা আজ্ঞা, জননী!" #########################################পার্কে গিয়ে আসিফ ও রাবেয়া বেগম বিকেলটা কেমন কাটবে?তারা কি সেখানে গিয়ে কোনো গভীর আবেগঘন কথা বলবে ?