মা ও ছেলের গল্প - অধ্যায় ৭
[ পর্ব - 11] #########################################আসিফ মাকে রিকশায় তুলে দিয়েই রাস্তার ওপারের বড় কাপড়ের দোকানটির দিকে এগিয়ে গেল। দোকানে ঢুকে সে সোজা চলে গেল শাড়ির সেকশনে।সে খুব ভালো করেই জানে, রাবেয়া বেগম গত কয়েক বছর ধরে নিজের জন্য নতুন কোনো ভালো শাড়ি কেনেননি। আসিফের যখনই কোনো শাড়ি বা জামা কিনে দিতে চেয়েছে, মা সবসময় রেগে গিয়ে বলেছেন, "আমার এই বয়সে এত শাড়ির কী দরকার? তোর নিজের জন্য কেন।" কিন্তু আসিফ আজ মায়ের কোনো অজুহাত শুনবে না।সে কাউন্টারের সেলসম্যানকে বলল, "ভাই, ৪৫ বছর বয়সী একজন নারীর জন্য খুব আরামদায়ক, অথচ দেখতে রাজকীয়—এমন একটা সুতি বা জামদানি শাড়ি দেখান তো।" #########################################সেলসম্যান একে একে বেশ কয়েকটি সুন্দর শাড়ি বের করল। আসিফ অনেক সময় নিয়ে, কাপড়ের সুতো হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখল, কারণ মায়ের ত্বক খুব সংবেদনশীল। অবশেষে তার নজর কাড়ল একটি গাঢ় মিষ্টি রঙের সুতি জামদানি শাড়ি, যার পাড়ে নিখুঁত সোনালী সুতোর কাজ করা। শাড়িটি দেখামাত্রই আসিফের মনে হলো, এই শাড়িতে তার মাকে একদম রানীর মতো লাগবে। #########################################শাড়িটি সুন্দর করে প্যাকেট করিয়ে নিয়ে আসিফ দোকানের বাইরে এলো। তবে সারপ্রাইজ এখানেই শেষ নয়; সে পাশের মিষ্টির দোকান থেকে মায়ের প্রিয় গরম রসগোল্লাও কিনে নিল।প্যাকেটগুলো হাতে নিয়ে আসিফ মনে মনে হাসল। সে ভাবল, বাসায় গিয়ে এই উপহার দেখার পর মায়ের মুখের ওই রাগী ভাবটা কীভাবে এক নিমেষে আনন্দের হাসিতে রূপ নেবে! ########################################বাসায় ফিরে আসিফ যখন মাকে এই সারপ্রাইজটি দেবে, তখন রাবেয়া বেগমের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে?